পাকিস্তানের গ্যাস পাইপলাইনে হামলার পর বিস্ফোরণ। ছবি: সংগৃহীত।
জ্বালানি সঙ্কটে যখন ভুগছে পাকিস্তান, সেই সময়েই দক্ষিণ পাকিস্তানে প্রাকৃতিক গ্যাসের পাইপলাইনে হামলা চালাল একদল অজ্ঞাতপরিচয়। বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হল পাইপলাইনের বড় অংশ। তার জেরে বহু জেলায় গ্যাস সরবরাহ থমকে গিয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে হাহাকার পড়ে গিয়েছে। তবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি কেউই।
সুই সাদার্ন গ্যাং সংস্থার মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোয়েটা শহরের বাইরে বড় এলাকা জুড়ে গ্যাসের পাইপলাইন উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তার জেরে বহু জেলায় গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত। এমনিতেই পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতের জেরে জ্বালানি পৌঁছোচ্ছে না ঠিকমতো। হরমুজ় প্রণালীতে আটকে রয়েছে পাকিস্তানের তেল এবং গ্যাসবাহী জাহাজ। সে কারণে দেশে এমনিতেই জ্বালানির সঙ্কট চলছে। তার মধ্যে কোয়েটায় গ্যাসের পাইপলাইনে বিস্ফোরণ পরিস্থিতিকে আরও সঙ্কটময় করে তুলবে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচটি জেলায় গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ। সুই অঞ্চলে মহম্মদ কলোনি, নাসিরাবাদেও গ্যাসের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পাঞ্জগুর, সিবি, মাস্তুঙ, নোশকি, খারান, কোয়েটা এবং ডেরা বুগতি সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে। ঘটনাচক্রে, আফগানিস্তান এবং ইরানের সীমান্তলাগোয়া পাকিস্তানের কোয়েটা জেলা। পাকিস্তানের অভিযোগ, ষড়যন্ত্র করে এই হামলা চালানো হয়েছে। সরাসরি না বললেও অভিযোগের আঙুল তুলেছে আফগানিস্তানের দিকেই।
প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারি থেকেই পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। সীমান্ত সংঘর্ষ তো বটেই, আকাশসীমা লঙ্ঘন করে পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে দুই দেশ। গ্যাস পাইপলাইনে হামলা এই পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করবে বলেই মনে করছেন অনেকে।