Donald Trump’s H-1B Visa Rule

এইচ-১বি ভিসা: ট্রাম্প ঘোষিত শর্ত বেআইনি! একতরফা ভাবে চাপানো হয়েছে এক লক্ষ ডলার মাসুল, রায় মার্কিন আদালতের

ট্রাম্প যে ভাবে এইচ-১বি ভিসার জন্য সংস্থাগুলির উপর মাসুল চাপিয়েছিলেন, তা একটি ‘বেআইনি কর’ বলে ব্যাখ্যা করছে মার্কিন আদালত। একই সঙ্গে বিচারক এ-ও জানিয়েছেন, ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্ত কংগ্রেস কোনও অনুমোদন দেয়নি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ০৯:০৫
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।

শুল্কনীতি আগেই ধাক্কা খেয়েছে। এ বার ভিসা-নীতি নিয়েও আদালতে ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এইচ-১বি ভিসার জন্য মার্কিন সংস্থাগুলির উপর যে মাসুল চাপিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন, তা বেআইনি। সোমবার ৪২ পাতার এক রায়ে এমনটাই জানিয়েছে আমেরিকার আদালত। এইচ-১বি ভিসার জন্য ট্রাম্পের চাপানো ওই শর্তকে বাতিল করে দিয়েছেন বিচারক।

Advertisement

এইচ-১বি হল আমেরিকার একটি অ-অভিবাসী ভিসা। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীরা সাময়িক ভাবে আমেরিকায় থেকে সেখানকার সংস্থার হয়ে কাজ করতে পারেন। কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বরে এই ভিসা-নিয়মে কড়াকড়ি চালু করেন ট্রাম্প। জানিয়ে দেন, ভিন্‌দেশের কর্মীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে এইচ-১বি ভিসার আবেদনের সময়ে এক লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৯৫ লক্ষ টাকারও বেশি) জমা দিতে হবে মার্কিন সংস্থাগুলিকে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল আমেরিকার বস্টনে এক ফেডারেল কোর্টে। এ বার সেই আদালত বাতিল করে দিল ট্রাম্পের চাপানো এইচ-১বি ভিসার শর্ত।

ট্রাম্প যে ভাবে এইচ-১বি ভিসার জন্য সংস্থাগুলির উপর মাসুল চাপিয়েছিলেন, তা একটি ‘বেআইনি কর’ বলে ব্যাখ্যা করছে মার্কিন আদালত। একই সঙ্গে বিচারক এ-ও জানিয়েছেন, ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তে কংগ্রেস অনুমোদন দেয়নি। আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জমানায় নিযুক্ত বিচারক লিও সোরোকিন তাঁর রায়ে জানান, মার্কিন অভিবাসন নীতিতে এই ধরনের পরিবর্তন বা শর্ত চাপানোর ক্ষমতা শুধু কংগ্রেসেরই রয়েছে। রায়ে তিনি লেখেন, “এইচ-১বি ভিসার আবেদনের উপর কর চাপানোর কোনও ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের ছিল না। তাঁর উপর এমন কোনও দায়িত্বও অর্পিত ছিল না।”

বস্তুত, এইচ-১বি ভিসার আওতায় বিদেশ থেকে যাঁরা আমেরিকায় কাজ করতে যান, তাঁরা সমপদে আসীন মার্কিন কর্মীদের সমান বেতনই পেয়ে থাকেন। দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প বার বার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁর জমানায় আগে সুবিধা পাবেন মার্কিন নাগরিকেরা। তার পরে অন্যদের বিষয়ে ভাবা হবে। এইচ-১বি ভিসায় ট্রাম্পের এই কড়াকড়ি তারই প্রতিফলন বলে মনে করেন অনেকে। এইচ-১বি ভিসায় আমেরিকায় যাওযা দক্ষ বিদেশি কর্মীদের উপরে অনেকাংশে নির্ভর করে থাকে মার্কিন সংস্থাগুলি। সে দেশের প্রযুক্তি সংস্থাগুলি এই ভিসায় আমেরিকায় যাওয়া কর্মীদের উপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। কিন্তু ট্রাম্পের চাপানো শর্তের ফলে সংস্থাগুলির খরচ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছিল।

Advertisement
আরও পড়ুন