আমেরিকার নিন্দা শুনেও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের প্রশংসা করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, জিনপিং আমেরিকাকে ‘ক্ষয়িষ্ণু দেশ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। চিনের প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যকে ‘১০০ শতাংশ’ সমর্থন করে ট্রাম্পের আরও দাবি যে, জো বাইডেনের আমলে আমেরিকা সেই রকমই একটি দেশ ছিল। কিন্তু তাঁর আমলে আমেরিকা ক্রমশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
তিন দিনের সফরে চিনে গিয়েছেন ট্রাম্প। শুক্রবার তাঁর সফরের শেষ দিন। বৃহস্পতিবার সফরের দ্বিতীয় দিনে ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লেখেন, “প্রেসিডেন্ট শি যখন আমেরিকাকে ক্ষয়িষ্ণু দেশ হিসাবে উল্লেখ করলেন, তখন আসলে ঘুমন্ত জো বাইডেন এবং বাইডেন প্রশাসনের আমলে হওয়া ক্ষতির কথা বোঝাতে চাইলেন। এই দিক থেকে উনি (চিনের প্রেসিডেন্ট) ১০০ শতাংশ সঠিক।” প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের আগে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন বাইডেন। এই ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকের শারীরিক অবস্থা, বয়স এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়েও আগেও একাধিক বার কটাক্ষ করেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন যে, বাইডেনের আমলে বাণিজ্যচুক্তিগুলি খুব খারাপ ছিল। অপরাধের হার বেড়ে গিয়েছিল। তার পর আত্মপ্রশংসার সুরে তিনি জানান, তাঁর আমলে গত ১৬ মাসে আমেরিকার ‘অতুলনীয় উন্নতি’ হয়েছে।
কিন্তু ট্রাম্পের দাবি মোতাবেক, জিনপিং কি সত্যিই আমেরিকাকে ‘ক্ষয়িষ্ণু দেশ’ বলে বর্ণনা করেছেন? বেজিঙে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে চিনের প্রেসিডেন্ট বলেন, “বিশ্ব এক নতুন সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। চিন আর আমেরিকা কি ‘থুকিডিডিস ফাঁদ’ এড়িয়ে বৃহৎ শক্তি হিসাবে সম্পর্কের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারবে?” প্রসঙ্গত, গ্রিক ঐতিহাসিক থুকিডিডিস আথেন্স এবং স্পার্টার সংঘাতের ইতিহাস বোঝাতে গিয়ে একটি পক্ষের শক্তি অর্জনে অন্য পক্ষের মনে ভয়ের সঞ্চার হওয়ার কথা বলেছিলেন। জিনপিং সেই সূত্র ধরেই বলেন, “এই শতাব্দীতে দারুণ কিছু পরিবর্তন হবে।” তাঁর ইঙ্গিত ছিল এই যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে আমেরিকার যে একচেটিয়া দাপট ছিল, তা আর থাকবে না। তার পরেই ‘ক্ষয়িষ্ণু দেশ’ লব্জটি ব্যবহার করে বাইডেন জমানাকে কটাক্ষ করেন ট্রাম্প।