জ়োহরান মামদানি। ছবি: রয়টার্স।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পাঁচ মাস আগেই প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করে দিল আমেরিকার প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। আর প্রাথমিক পর্বেই নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক ককাসে বিপুল জয় পেল মেয়র জ়োহরান মামদানির শিবির!
মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির তিনটি কংগ্রেসনাল প্রাইমারিতে জয়ী হয়েছেন মামদানি অনুগত ‘বামপন্থী গোষ্ঠী’র প্রার্থীরা। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে পরাজিতদের মধ্যে রয়েছেন দলের অন্দরে ‘মামদানি বিরোধী’ হিসাবে পরিচিত বর্তমানে কংগ্রেসের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্য ড্যান গোল্ডম্যান। তাঁকে প্রাইমারি ভোটাভুটিতে হারিয়ে দিয়েছেন মামদানি গোষ্ঠীর প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার। নিউ ইউর্কের শ্রমিক ইউনিয়নগুলির সদস্যদের অধিকাংশ ভোটই গিয়েছে মামদানি গোষ্ঠীর অনুকূলে। চারটি ডেমোক্র্যাট প্রাইমারির তিনটিতে জিতেছেন মামদানির গোষ্ঠী ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট অব আমেরিকা’র প্রার্থীরা।
গাজ়া ভূখণ্ডে ইজ়রায়েলি হামলার ঘটনায় গত কয়েক বছর ধরেই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অন্দরে মতবিরোধ চলছে। ইসলাম ধর্মাবলম্বী মামদানি, প্রকাশ্যে ইজ়রায়েলি হামলার বিরোধিতা করলেও ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব ও সমর্থকদের বড় অংশই এ ক্ষেত্রে তেল আভিভের সঙ্গে সখ্য বজায় রাখার পক্ষে। এই আবহে প্রাইমারি নির্বাচন বিভাজনকে প্রকট করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। মামদানি নিজে, ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে তাঁর অনুগামীদের জন্য ধারাবাহিক প্রচার চালিয়েছিলেন। মঙ্গলবার রাতে ফল প্রকাশের পরে ব্রুকলিনে বিজয়োৎসবে তাঁর সমর্থকদের ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দিতেও শোনা গিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতোই চার বছর অন্তর আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন হয়। আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি এবং নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৩৫টি সাধারণ আসনের সব ক’টিতেই ভোটগ্রহণ হবে। সেই সঙ্গে ভোটগ্রহণ হবে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ‘ভোটদানের ক্ষমতাহীন’ ৬টি আসনের মধ্যে ৫টি এবং ৩৬টি প্রদেশ (স্টেট) আর ৩টি টেরিটরির গভর্নর নির্বাচন।
সাধারণ ভাবে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন একটি নকশা মেনে চলে। কংগ্রেসের দুই কক্ষেই কিছুটা আসন কমে যায় ক্ষমতাসীন দলের। সেই হিসাবে এ বার ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কিছুটা স্বস্তিতে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। যদি কোনও মধ্যবর্তী নির্বাচনে চেনা ছকের বাইরে গিয়ে, শাসকদলই কংগ্রেসে বেশি আসন জেতে (মার্কিন রাজনীতিতে বেশ কয়েক বার সে রকম ঘটেছে), তা হলে তা প্রেসিডেন্টের সমর্থনে বিপুল গণভোট বলেই ধরা হয়। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরে সংঘাতে আবহে সে রকম কিছু হলে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান নিশ্চিত ভাবেই আরও মজবুত হবে।