(বাঁ দিকে) অভিযুক্ত যুবক বিক্রম দিগওয়া। (মাঝে) হেনরিকে হাতকড়া। (ডান দিকে) মৃত যুবক হেনরি। ছবি: সংগৃহীত।
ব্রিটেনে এক তরুণকে ছুরি নিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠল এক ভারতীয় বংশোদ্ভূতের বিরুদ্ধে। আহত সেই তরুণকে হাতকড়া পরিয়ে গ্রেফতারের চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু বার বার ওই তরুণ পুলিশকে জানান, তাঁকে ছুরি মারা হয়েছে। অভিযোগ, প্রথমে বিশ্বাস করতে চায়নি পুলিশ। বরং হামলাকারীর পাল্টা অভিযোগে ওই তরুণকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হয়। সেই সময় আহত তরুণ পুলিশের কাছে বার বার বলেন, ‘‘আমি দম নিতে পারছি না। আমাকে ছেড়ে দিন।’’
এর পরই তাঁকে উঠিয়ে বসান এক পুলিশ অফিসার। তখন তাঁরা দেখতে পান, তরুণের পিঠ থেকে রক্ত ঝরছে। তাঁকে উঠিয়ে বসানোর কয়েক মুহূর্ত পরেই তরুণের মৃত্যু হয়। পুলিশ অফিসারেরা তাঁকে সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বাঁচানো যায়নি। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে (যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। সেই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অনেকেই।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত ওই তরুণের নাম হেনরি নোভাক। তাঁকে ছুরি দিয়ে কোপানোর অভিযোগ ওঠে ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিখ যুবক বিক্রম দিগওয়ার বিরুদ্ধে। তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ব্রিটেনের একটি আদালত বিক্রমকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। ঘটনাটি দক্ষিণ ইংল্যান্ডের সাদাম্পটনের। গত বছরের ডিসেম্বরের ঘটনা। সেই ঘটনার ফুটেজ সম্প্রতি প্রকাশ করেছে পুলিশ এবং তা নোভাকের পরিবারের অনুমতি নিয়ে। সেই ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, নোভাক পুলিশের কাছে কাকুতি মিনতি করছেন। রক্তাক্ত। তাঁর থেকে কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে অভিযুক্ত বিক্রম। পুলিশের কাছে বিক্রম দাবি করেন, তিনি জাতিবিদ্বষের শিকার। তাঁর উপর হামলা চালিয়েছেন নোভাক। বিক্রমের কথা বিশ্বাস করে নোভাককে গ্রেফতার করার চেষ্টা পুলিশ। কিন্তু নোভাক তাদের জানান, তাঁকে ছুরি দিয়ে কোপানো হয়েছে। নোভাককে তুলে বসাতেই পুলিশ অফিসারেরা দেখতে পান তিনি গুরুতর আহত।
বিক্রমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। তার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সম্প্রতি ব্রিটেনের আদালত তাঁকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। নোভাকের হত্যার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়েরা। তাঁরা অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন।