—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
উপসাগরীয় যুদ্ধের দশম দিনে পরিস্থিতি কঠিনতর হল। বাহরিনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা (বাহরিন পেট্রলিয়াম কোম্পানি বা বাপকো) জানিয়েছে, তাদের বৃহত্তম শোধনাগার লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে সমুদ্রের জল শোধন করে পানীয় জল তৈরির পরিকাঠামোও। তেহরান ও তার নিকটবর্তী অঞ্চলে একই ধরনের পরিকাঠামোয় ইজ়রায়েলের হামলার পরেই ইরানের এই আক্রমণ। ফলে নাগরিক জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত পরিকাঠামোগুলির আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে গোটা পশ্চিম এশিয়ায়। সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃতকরে আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইজ়রায়েলের এই পদক্ষেপ ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিরক্ত। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জোটের অভ্যন্তরে দ্বিমত এই প্রথম।
তেহরানের একটি তেল শোধনাগার ও তিনটি ডিপোয় আক্রমণ চালিয়েছিল ইজ়রায়েল। তার জেরে ইরনের রাজধানীর আকাশ বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। রাস্তায় তেল চুঁয়ে তাতে আগুন ধরে ছুটছে আগুনের নদী। হয়েছে অ্যাসিড বৃষ্টি। এই অবস্থায় সোমবার সে দেশের প্রশাসন নাগরিকদের বাইরে বার না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে একটি জল শোধনাগার। এর পরেই উপসাগরে আমেরিকার বিভিন্ন মিত্র দেশের একই ধরনের পরিকাঠামোর উপরে হামলা শুরু করেছে ইরান। বাহরিন জানিয়েছে, তাদের তেল ও জল শোধনাগারে আক্রমণ চলেছে। আপতকালীন পদক্ষেপে দেশের অভ্যন্তরে তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। কিন্তু সন্দেহ তৈরি হয়েছে বিশ্ব বাজারে তাদের জোগান নিয়ে। বিশেষ করে যখন হরমুজ় প্রণালীও প্রায় বন্ধ।
নাগরিক পরিকাঠামোর উপরে আক্রমণের জন্য এ দিন আমেরিকাকে দায়ী করেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এতে ওয়াশিংটন ডিসি কিছুটা অস্বস্তিতে। আমেরিকার সরকারি সূত্রের বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান না বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ কমুক বা দাম বাড়ুক। আদতে তিনি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চান। কিন্তু ইরানের তেল শোধনাগারে ইজ়রায়েলের আক্রমণে বরং ঘটেছে উল্টোটা। অশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেল প্রতি দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ইজ়রায়েলকে এ ব্যাপারে বার্তাও দেওয়া হয়েছে। তবে একাংশের ব্যাখ্যা, ট্রাম্পের উদ্দেশ্য এতটা সহজ-সরল না-ও হতে পারে। নাগরিকদের উপরে ইজ়রায়েলের এই আক্রমণে ইরানের সরকার বিরোধীরাও বেঁকে বসতে পারেন। তা আমেরিকার পক্ষে ভাল খবর নয়।