Strait of Hormuz Closed

হরমুজ় আবার বন্ধ করে দিল ইরান! সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার পরেও লেবাননে ইজ়রায়েলি হানার ‘জবাব’ দিতেই সিদ্ধান্ত

লেবাননের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইজ়রায়েলের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন। অন্তত ২০টি জায়গায় হানা চালানো হয়েছে। তার পরেই ইরান জানিয়ে দিল, ‘শত্রুপক্ষকে’ জবাব দিতে বন্ধ করা হল হরমুজ়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ১৯:৩৩
হরমুজ় প্রণালী।

হরমুজ় প্রণালী। — ফাইল চিত্র।

আবার হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে দিচ্ছে বলে শনিবার ঘোষণা করল ইরান। আমেরিকার সঙ্গে ইরানের চুক্তি না মেনেই লেবাননের দক্ষিণে হিজ়বুল্লাদের নিশানা করে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে ইজ়রায়েল। লেবাননের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন। অন্তত ২০টি জায়গায় হানা চালানো হয়েছে। তার পরেই ইরান জানিয়ে দিল, ‘শত্রুপক্ষকে’ জবাব দিতে বন্ধ করা হল হরমুজ়।

Advertisement

ইরানের সরকারি চ্যানেল সে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদর দফতর খতম-আল-আনবিয়ার একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘‘হরমুজ় দিয়ে জাহাজ চলাচল করবে না। শত্রুরা যে চুক্তি ভেঙেছে, তার জবাব দিতে প্রথম পদক্ষেপ করা হল। এ ভাবে আগ্রাসন চলতে থাকলে পরবর্তী পদক্ষেপ পরিকল্পনা করা হবে। শত্রুদের চুক্তি মানতে বাধ্য করা হবে।’’ ইরানের নৌবাহিনীও এই পদক্ষেপের জন্য লেবাননে ইজ়রায়েলের হামলাকেই দায়ী করেছে।

ওয়াশিংটনের তরফে জানানো হয়েছিল, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির শর্তের অংশ হিসাবেই শুক্রবার বিকেল ৪টেয় (স্থানীয় সময়) থেকে ইজ়রায়েল এবং হিজ়বুল্লার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। ইজ়রায়েল সরকার এবং হিজ়বুল্লাও তাতে সম্মতি জানিয়েছিল। কিন্তু রাত গড়াতেই ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় স্থলপথে হামলা চালায়। আরব সালিম, দেইরের মতো জনপথে গোলাবর্ষণ করা হয়। শনিবার ভোরে নাবাতিয়েহ এলাকার অসামরিক বসতি অঞ্চলে হয় ড্রোন হামলা।

লেবাননের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, দক্ষিণ লেবাননের বারিশ শহরে ইজ়রায়েলি বাহিনীর হামলায় একই পরিবারের চার জনের মৃত্যু হয়েছে। বাবা-মা এবং দুই সন্তান নিহত হয়েছেন। অন্য দিকে, ইজ়রায়েল দাবি করেছে, হিজ়বুল্লাদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে লেবাননের ৫০টি জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে।

লেবাননে ইজ়রায়েলের এই হামলার ইতিমধ্যে সমালোচনা করেছে আমেরিকা। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকারের এই হামলার কারণে তেহরানের সঙ্গে তাদের যে চুক্তি হয়েছে, তা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ওই চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল, লেবাননেও হামলা বন্ধ করতে হবে ইজ়রায়েলকে। ইরানের সঙ্গে চুক্তি পাকা করতে আমেরিকার দূত স্টিভ উইটকফ সুইৎজ়ারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। সেই আবহে লেবাননে নেতানিয়াহু প্রশাসনের নতুন করে হামলায় আশঙ্কার মেঘ তৈরি হয়েছে।

হিজ়বুল্লার নেতা বিবিসি-কে জানিয়েছেন, তাঁরা আমেরিকার সঙ্গে ইরানের চুক্তিকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। লেবাননের অভ্যন্তরে স্বাধীন ভাবে ঘোরাফেরা করার যে লক্ষ্য রয়েছে ইজ়রায়েলের, তা তাঁরা মানবে না বলে দাবি করেছেন ওই নেতা। হিজ়বুল্লার শীর্ষ নেতা হাসান ফাদলাল্লাহ জানিয়েছেন, ইজ়রায়েল যে হামলা করছে, তার জবাব দেওয়ার অধিকার তাঁদের রয়েছে। ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-র দাবি, হিজ়বুল্লা সশস্ত্র গোষ্ঠীর জঙ্গি পরিকাঠামো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে একমত হতে পারছিলেন না নেতানিয়াহু। মার্কিন প্রশাসনের কয়েকটি সূত্রের দাবি, গোয়েন্দারা সতর্ক করেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা ভেস্তে দিতে পারেন নেতানিয়াহু। ঘটনাচক্রে, দেখা গিয়েছে ইরানের সঙ্গে যখন এক দিকে আমেরিকা সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করছিল, সেই সময়েই লেবাননে হামলা চালায় ইজ়রায়েল। শুধু তা-ই নয়, মার্কিন আপত্তি উপেক্ষা করেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ওই সূত্রের দাবি।

শুক্রবার আমেরিকা-ইরানের সমঝোতা নিয়ে যখন ঘোষণা হয়নি, তার আগে ইজ়রায়েল স্পষ্ট জানায়, লেবানন থেকে বাহিনী প্রত্যাহারের ইচ্ছা তাদের নেই। তারও আগে লেবননের স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানায়, ইজ়রায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। ৯৭ জন জখম। নেতানিয়াহুর প্রশাসন দাবি করে, তাদের চার জন জওয়ান নিহত হয়েছেন।

এই আবহে ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘ইজ়রায়েলের সঙ্গে আমরা মিলিত ভাবে সামরিক অভিযান চালিয়েছি। ওদের (ইজ়রায়েল) সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক যথেষ্ট ভাল। তবে বিবি কিন্তু যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী। ওর নিজেরও এটা স্বীকার করা উচিত।’’ পাশাপাশি তিনি এটাও বলেছেন, ‘‘আমাদের দু’জনের সম্পর্ক এমনিতেই খুব ভাল। তবে বিবিকে মাঝেমধ্যে একটু টেনে ধরে রাখার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি।’’

মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সাংবাদিকেরা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তা হলে কি তিনি লেবাননে ইজ়রায়েলি হামলা বন্ধ করানো বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করবেন? ট্রাম্পের জবাব, ‘‘অবশ্যই। আমার প্রতি ওদের (ইজ়রায়েলের) আস্থা আছে। আমি যা বলব, ওরা সেটাই করবে।’’ লেবাননে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে নেতানিয়াহুকে বেশ কয়েক বার সতর্ক করেছিলেন ট্রাম্প। তাঁকে ‘বদ্ধ উন্মাদ’ বলেও ভর্ৎসনা করেন। কিন্তু তার পরেও নেতানিয়াহু লেবাননে হামলা বন্ধ করেননি।

এ বার তার পাল্টা হিসাবে হরমুজ় বন্ধ করার ঘোষণা করল ইরান। তাতে ইরান আমেরিকা চুক্তি নিয়ে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তা তৈরি হল। চুক্তিটি স্বাক্ষর‌ের আগে আরও বিস্তারিত ভাবে আলোচনার জন্য ৬০ দিন সময়সীমা রাখা হয়েছে। কিন্তু তেল আভিভ ধারাবাহিক আগ্রাসন বজায় থাকলে পুরো প্রক্রিয়া ভেস্তে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন