Ayatollah Khamenei’s funeral

খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে যোগ দেবেন কে কে? জানিয়ে দিল নয়াদিল্লি, আমন্ত্রিত খড়্গে ও খুরশিদও কি ইরানে যাবেন?

খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার জন্য কংগ্রেসের তিন নেতাকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইরান। দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সলমন খুরশিদ এবং এআইসিসির মুখপাত্র পবন খেড়া রয়েছেন তালিকায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ১৭:২২
Iran invited Congress president Mallikarjun Kharge and party leaders Salman Khurshid and Pawan Khera to the burial ceremonies of Ayatollah Ali Khamenei

(বাঁ দিক থেকে) মল্লিকার্জুন খড়্গে, নরেন্দ্র মোদী এবং সলমন খুরশিদ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা এবং বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সরকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও তিনি তেহরানে যাবেন না। পরিবর্তে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে যাবেন মার্গারিটা ও হাসনাইন।

Advertisement

মৃত্যুর চার মাস পরে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লার শেষকৃত্য রাষ্ট্র্রীয় মর্যাদায় করতে চলেছে ইরান। আর সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য কংগ্রেসের তিন নেতাকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে পেজ়েশকিয়ানের সরকার। দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সলমন খুরশিদ এবং এআইসিসির অন্যতম মুখপাত্র পবন খেড়া রয়েছেন এই তালিকায়। তবে তাঁরা ইরানে যাচ্ছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। খুরশিদ এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘আমরা আমন্ত্রণ পেয়েছি। দলীয় প্রতিধিনি হিসেবে কারা ইরানে যাবেন, তা আলোচনা করে স্থির করা হবে।’’

ইরান সরকার আগেই জানিয়েছে, আগামী ৫ জুলাই নিহত সর্বোচ্চ নেতার শেষকৃত্যের ধর্মীয় প্রক্রিয়া শুরু করা হবে রাজধানী তেহরানে। আয়াতোল্লাকে সমাহিত করা হবে ৯ জুলাই, তাঁর নিজের শহর মাশহাদে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছিল পেন্টাগন। সে দিনই নিহত হয়েছিলেন খামেনেই। সে সময়ই সিদ্ধান্ত হয়েছিল তাঁকে ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে সমাহিত করা হবে। ওই হামলায় ইরানের বেশ কয়েক জন উচ্চপদস্থ সেনা আধিকারিকও নিহত হন। তাঁদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হলেও তিন দশক ধরে ইরানের ক্ষমতায় থাকা আয়াতোল্লাকে সমাহিত করা হয়নি। আয়াতোল্লার শেষকৃত্যে এই বিলম্ব ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছিল।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আয়াতোল্লার পুত্র মোজ়তবা খামেনেইকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনিও মার্কিন হামলায় গুরুতর জখম হন। নিহত আয়াতোল্লার দেহ কোথায়, কী অবস্থায় রয়েছে সে বিষয়ে কোনও তথ্যও প্রকাশ্যে আসেনি। এখনও জনসমক্ষে আসেননি মোজ়তবাও। ইরানের এক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতার নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং ক্ষমতা হস্তান্তর-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই বিলম্বের প্রধান কারণ। কূটনীতি এবং সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সর্বোচ্চ নেতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রাজনৈতিক সমাবেশও। ইরানে ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি আমেরিকান ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছিলেন কমান্ডার কাসেম সোলেমানি। ৪ থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ইরানের বিভিন্ন শহরে চলেছিল শোকযাত্রা। লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাবেশ দেখা গিয়েছিল সেখানে। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই ধরনের সমাবেশ মোজ়তবা, পেজ়েশকিয়ান-সহ অন্য নেতাদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা ছিল। আমেরিকার সঙ্গে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পরে গত ১৩ জুন আয়াতোল্লার শেষকৃত্যের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছিল তেহরান। সে সময় তা ইঙ্গিতবাহী বলেই মনে করা হচ্ছিল। ঘটনাচক্রে, ১৭ জুন যুদ্ধবিরতি সমঝোতা সংক্রান্ত মউ সই করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পেজ়েশকিয়ান। তার পরেই শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরুর ঘোষণা করে তেহরান।

Advertisement
আরও পড়ুন