Nuclear Non-Proliferation Treaty

‘হুমকি দিচ্ছে আমেরিকা’! ইরান এ বার আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি থেকে সরে আসার কথা ঘোষণা করল

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান পরমাণু অস্ত্র প্রসাররোধ চুক্তি (নিউক্লিয়ার ননপ্রলিফারেশন ট্রিটি বা এনপিটি) থেকে সরে আসার কথা ঘোষণা করায় পশ্চিমী দুনিয়ার উপর চাপ বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ ১৭:৩৮
Iran planning to leave Nuclear Non-Proliferation Treaty treaty and amy paving way for weapons

(বাঁদিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মোজ়তবা খামেনেই (ডানদিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আমেরিকার বিরুদ্ধে ‘ভীতিপ্রদর্শনের’ অভিযোগ তুলে পরমাণু অস্ত্র প্রসাররোধ চুক্তি (নিউক্লিয়ার ননপ্রলিফারেশন ট্রিটি বা এনপিটি) থেকে সরে আসার ঘোষণা করল ইরান। সোমবার তেহরান জানিয়েছে, আমেরিকা-সহ আন্তর্জাতিক দুনিয়া পরমাণু চুক্তি করার জন্য হুমকি দেওয়ার প্রতিক্রিয়াতেই এই পদক্ষেপ।

Advertisement

ইরান বিদেশ দফতরের মুখপাত্র ইসমাইল বঘাই চলতি মাসের গোড়ায় জানিয়েছিলেন, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘‘শীঘ্রই পার্লামেন্টে একটি বিল পেশ করা হবে। ইতিমধ্যেই সেই বিল তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।’’ তবে একই সঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, তারা ধ্বংসের জন্য অস্ত্র বানানোর বিরোধিতা করে যাবে। সোমবার ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছেন, বিল তৈরির কাজ শেষ হয়েছে।

তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করলেও পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের পথ খোলা রাখতেই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এনপিটি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজ়তবা খামেনেই, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েসকিয়ানরা। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জমানায় ইরানের সঙ্গে তিন বছরের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি করেছিল ছয় শক্তিধর রাষ্ট্র— ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি, চিন এবং আমেরিকা। অথচ ২০১৮-য় সেই চুক্তি ভেঙে বেরিয়ে আসেন ট্রাম্প। যুক্তি ছিল, চুক্তির ‘রক্ষাকবচ’ ব্যবহার করে নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে তেহরান।

এর পর ২০২৪ সালের শেষে রাষ্ট্রপুঞ্জের পরমাণু বিষয়ক নজরদারি সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি’ (আইএইএ)-র একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ফের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি শুরু করেছে ইরান। তাদের কাছে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। এর পরেই নড়েচড়ে বসে বিশ্বের তাবড় শক্তিধর দেশগুলি। নতুন কিছু শর্ত আরোপ করে পরমাণু চুক্তি ইরানকে সই করানোর জন্য বাগ মানানোর চেষ্টা শুরু হয়। কিন্তু তা মানতে রাজি হয়নি ইরান। পাশাপাশি, তাদের তরফে বার বারই জোর দিয়ে দাবি করা হয়েছে যে, পরমাণু কর্মসূচি শুধু মাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং অন্যান্য শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু তা মানতে নাজার আমেরিকা-সহ পশ্চিমী বিশ্ব।

Advertisement
আরও পড়ুন