ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের। ছবি: রয়টার্স।
ইরানের পরমাণুকেন্দ্র নাতান্জ়, ইসফাহানে একের পর এক বোমাবর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে। শুধু তা-ই নয়, ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলিকেও নিশানা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে আমেরিকা। ইরানের একের পর এক অস্ত্রভান্ডারে হামলার যে দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করছেন, দেখা গিয়েছে, সেই হামলার পরেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ভাঁড়ারে কোনও টান পড়েনি, বরং তার পরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে চমকে দেওয়ার মতো রিপোর্ট এসেছে মার্কিন গোয়েন্দাদের তরফে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দাদের ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বোমাবর্ষণের পরেও ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন এবং মজুত কেন্দ্রগুলি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আবার সক্রিয় করা হচ্ছে। উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু করা হচ্ছে। আর এই রিপোর্টই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের হাতে এখনও পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে এবং উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাও রয়েছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে, ইরানে গত পাঁচ সপ্তাহে ১১০০০ জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দাদের রিপোর্টে কিন্তু সেই ইঙ্গিত নেই। অর্থাৎ যা দাবি করা হচ্ছে, সেই সংখ্যা থেকে বাস্তব চিত্র অনেকটাই আলাদা। শুধু তা-ই নয়, আমেরিকা যে বার বার দাবি করেছে, ইরানের অস্ত্রভান্ডারে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমছে, মার্কিন গোয়েন্দাদের রিপোর্ট কিন্তু তার উল্টোটাই দাবি করছে।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দাদের রিপোর্টে কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। তবে এটা দাবি করা হয়েছে, ইরানের হাতে এখনও যথেষ্ট অস্ত্র মজুত রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বার বার এটাই দাবি করেছেন, ‘‘ওরা (ইরান) যদি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে থাকে, আমেরিকাও ওদের (ইরান) অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে।’’ অন্য দিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি দাবি করেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা ৯০ শতাংশ কমে গিয়েছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশ কেন্দ্রও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।