সৌদির বিমানঘাঁটিতে হামলা ইরানের। ছবি: সংগৃহীত।
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে পর পর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান। এই হামলায় বেশ কয়েক জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। ওই সেনাঘাঁটিতে থাকা বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংবাদসংস্থা রয়টার্স মার্কিন প্রশাসনের এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা এই হামলায় আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওই সূত্র জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তিনশো জনেরও বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। তবে তাঁদের মধ্যে কাজে ফিরেছেন ২৭৩ জন। এখনও পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে এই সংঘাতে।
প্রসঙ্গত, ইরান দু’দিন আগেই উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, হোটেলে বা সরকারি দফতরে মার্কিন সেনাদের আশ্রয় দিলে, সেই সব হোটেল এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলিকে নিশানা করা হবে। সেই হুঁশিয়ারির পরই শনিবার প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে পর পর ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালাল ইরান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানঘাঁটি ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন বায়ুসেনার কয়েকটি যুদ্ধবিমান এবং একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই প্রথম নয়, গত ১ মার্চেও এই বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল ইরান। সেই হামলায় এক মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলায় পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার ১৩টি সেনাঘাঁটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। সেই সব ঘাঁটি ছেড়ে এখন সেনাদের অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিতে হয়েছে। সেই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান হুঁশিয়ারি দেয়। বৃহস্পতিবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ তোলেন, উপসাগরীয় দেশগুলির নাগরিকদের ‘মানব ঢাল’ হিসাবে ব্যবহার করা শুরু করেছে মার্কিন সেনারা। তাই সেনাঘাঁটি ছেড়ে ওঁরা এখন হোটেল এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরে আশ্রয় নিচ্ছেন। এর পরই আরাঘচি উপসাগরীয় দেশগুলির হোটেলগুলিকে সতর্ক করেন।
ফার্স নিউজ় এজেন্সি-র প্রতিবেদন বলছে, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং বাহরিনের হোটেলগুলিকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে ইরানের তরফে। অন্য দিকে, ইরান সেনার মুখপাত্র অবৌলফজ়ল শোকরচী সরকারি টেলিভিশনকে বলেন, ‘‘যখন মার্কিন সেনারা কোনও হোটেলে আশ্রয় নেবে, সেই হোটেলও আমাদের নজরে ‘আমেরিকা’ হয়ে উঠবে। ফলে আমরাও হাত গুটিয়ে বসে থাকব না।’’