(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মোজ়তবা খামেনেই (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
মার্কিন সেনা আবার হামলা চালালে নতুন করে পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের উপযোগী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পথে হাঁটবে ইরান। মঙ্গলবার এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরান পার্লামেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজ়াই। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘‘যুদ্ধ যদি আবার শুরু হয়, তবে পার্লামেন্ট পারমাণু অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করবে। হামলা হলে ইরানের অন্যতম বিকল্প হতে পারে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা।’’
ঘটনাচক্রে, মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্র পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরান যে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা খারিজ করে দিয়েছিলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘‘গত ৮ এপ্রিল শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতিটি বর্তমানে ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে।’’ ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পরেই এই পরমাণু-হুঁশিয়ারি এল তেহরানের তরফে। তবে ট্রাম্পের চিন সফরের আগে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা নেই বলে কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি। তারা জানাচ্ছে, বেজিঙে শি জিনপিঙের সঙ্গে বৈঠকে চিনের ‘ইরান নীতি’ বদলানোর জন্য চাপ দিতে পারেন ট্রাম্প।
প্রসঙ্গত, ইরানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে একাধিক শর্তের কথা রয়েছে। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়েছে মোজ়তবা খামেনেইয়ের দেশ। পাশাপাশি হরমুজ় প্রণালীতে সার্বভৌম কর্তৃত্ব বজায় রাখা, তেল বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং তেহরানের নেতৃত্বাধীন ‘অ্যাক্সিস অফ রেজ়িস্ট্যান্স’-এর সদস্য লেবাননের হিজ়বুল্লা, ইরাকের ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ (পিএমএফ) এবং আশাব আল-কাহ্ফের, ইয়েমেনের হুথির উপর হামলা বন্ধেরও দাবি জানানো হয়েছে।
পরমাণু বোমা তৈরি করতে গেলে ৯০ শতাংশ বা তার বেশি পরিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন। এখনও তেহরান সেই দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি বলেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত। এর আগে ইরানের নাতান্জ়ে পরমাণু জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রেও চুক্তি ভেঙে অতিরিক্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছিল ইরানের বিরুদ্ধে। তেহরান গত বছর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ-কে জানিয়েছিল তাদের হাতে ৬০ শতাংশ পরিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। যা দিয়ে তুলনায় কম ক্ষমতাসম্পন্ন ‘ডার্টি বম্ব’ তৈরি করা সম্ভব। বিষয়টি নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল আইএইএ-র তরফে। প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি, সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও তেহারনের শর্ত মানায় আপত্তির কথা জানিয়েছেন।