ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। — ফাইল চিত্র।
ইরানে ‘সামরিক অভিযান’ করতে পারে আমেরিকা। সেই সম্ভাবনা জোরালো হতেই আমেরিকাকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখল ইরান। সে দেশের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা হামলা চালালে ফল ভুগতে হবে ইজ়রায়েলকে! সেখানকার মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালাবে ইরান।
রবিবার ইরানের পার্লামেন্টের অধিবেশন ছিল। সংবাদসংস্থা ‘এপি’ সূত্রে খবর, সেই অধিবেশনে স্পিকার সকলকে আমেরিকার হামলা নিয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন। একই সঙ্গে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। ইরান প্রথম থেকেই সে দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে আমেরিকাকে হস্তক্ষেপ না-করার আবেদন করছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রায়ই বুঝিয়ে দিচ্ছেন, ইরানে হামলা চালাতেই পারে আমেরিকা!
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে যে বিক্ষোভ চলছে, তাতে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে বা আন্দোলন দমনের চেষ্টা হলে আমেরিকা ছেড়ে কথা বলবে না, এমনও বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি দাবি করেন, ইরান ‘স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে রয়েছে’। ট্রাম্প এ-ও জানান, আমেরিকা সাহায্য করতে প্রস্তুত! ট্রাম্পের এই বার্তার পরে অনেকেরই ধারণা হয়েছে, আমেরিকা ইরানে হামলার পরিকল্পনা করছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক রিপোর্টে সরকারি সূত্র উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, ইতিমধ্যে মার্কিন বাহিনী ইরানে হামলার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। চলছে আলোচনা। হামলা করা হলে কোন কোন ঘাঁটিকে নিশানা করা হবে, তা-ও চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে আকাশপথে বড় হামলার পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন বাহিনীর। সে ক্ষেত্রে ইরানের সেনাঘাঁটিগুলিকে নিশানা করা হবে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর যদি অতর্কিতে ইরানে হামলা চালানোর প্রয়োজন পড়ে, তবে কী ভাবে কোন পথে অভিযান চলবে, তা নিয়ে প্রাথমিক ভাবে হোয়াইট হাউসে আলোচনা হয়েছে।
সেই সম্ভাবনার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখল। বিভিন্ন সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, ইজ়রায়েলে ‘উচ্চ সতর্কতা’ রয়েছে। শনিবার আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইরানের হামলার সম্ভাবনা যে অমূলক নয়, তা স্পষ্ট হল কালিবাফের বার্তাতেই।
ইরানের পরিস্থিতি দিন দিন উত্তপ্ত হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিক ভাবে সেখানে বিক্ষোভ চলছে। প্রাথমিক ভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুত তা দেশের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সার্বিক প্রতিবাদের আকার নেয়। খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন বহু মানুষ। ইরানের প্রশাসন কঠোর ভাবে বিক্ষোভ দমনের বার্তা দিয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ মোভাহেদি আজ়াদ শনিবারই জানিয়ে দেন, বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লার শত্রু’ হিসাবে দেখা হবে। এর জন্য ইরানে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। শতাধিক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। বিক্ষোভ দমন করতে ইরানে দু’দিন ধরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রেখেছে খামেনেই প্রশাসন।