Iran-US Agreement Deal

আমেরিকা ও ইরানের সমঝোতা বৈঠক শুরুর আগেই নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ইসলামাবাদ! রাস্তায় টহল সেনার, নজরদারি আকাশেও

পাক সাংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদের সমস্ত সরকারি দফতর, হোটেল, দূতাবাস, বিদেশি সংগঠনগুলির দফতর— সমস্ত কিছুর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০৫
ইসলামাবাদে প্রেসিডেন্ট হাউসের বাইরে নিরাপত্তা। ছবি: রয়টার্স।

ইসলামাবাদে প্রেসিডেন্ট হাউসের বাইরে নিরাপত্তা। ছবি: রয়টার্স।

ইসলামাবাদে আলোচনার টেবিলে বসতে চলেছে আমেরিকা এবং ইরান। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান। শনিবার দুই বিবদমান দেশের বৈঠকে বসার কথা। কিন্তু তার আগেই ইসলামাবাদ যেন নিরাপত্তার দুর্গে পরিণত হয়েছে। গোটা ইসলামাবাদকে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছে। আমেরিকা এবং ইরানের সমঝোতা বৈঠক কোন দিকে মোড় নেবে, সে দিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। বৈঠক কি ফলপ্রসূ হবে না কি ভেস্তে যাবে, তা নিয়ে ক্রমশ উত্তেজনার পারদ চড়ছে। আর এই আবহে ইসলামাবাদেও উত্তেজনা বাড়ছে। বাড়ছে উদ্বেগও।

Advertisement

সে দেশের সাংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদের সমস্ত সরকারি দফতর, হোটেল, দূতাবাস, বিদেশি সংগঠনগুলির দফতর— সমস্ত কিছুর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ওই এলাকায় গাড়ি চলাচলে রাশ টানা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ভিভিআইপি এলাকাগুলিতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতেও টহল দিচ্ছে সেনা এবং পুলিশবাহিনী। বৃহস্পতিবার থেকে দু’দিন রাজধানীর স্কুল এবং কলেজগুলি ছুটি দেওয়া হয়েছে। বাজারও বন্ধ করে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইসলামাবাদেই সমঝোতা বৈঠকে বসার কথা রয়েছে আমেরিকা এবং ইরানের। গাল্‌ফ নিউজ়-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসীন নকভি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন যে, আমেরিকার যে প্রতিনিধিদল ইসালামাবাদে আসবে, তাদের নিরাপত্তায় কোনও খামতি হবে না। ইতিমধ্যেই সেই প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে পৌঁছেছে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ইসলামাবাদের হোটেলে সেরেনায় ওই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। পাক মন্ত্রীর আশ্বাসের পরেও নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন হোয়াইট হাউসের প্রাক্তন প্রেস সচিব আরি ফ্লিশার। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, পাকিস্তানে এই বৈঠক কতটা স্বস্তির হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। নিরাপত্তাজনিত সংশয় তো বটেই। কারণ, অনেক বিষয়ই পাক সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান এবং আমেরিকার বৈঠকে যাতে নিরাপত্তায় কোনও বিঘ্ন না ঘটে, সে কারণে আকাশেও নজরদারি চালাচ্ছে পাকিস্তান। মোতায়েন করা হয়েছে পাক বায়ুসেনা আইএল-৭৮ রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার, সি-১৩০ বিমান। ইরানের বন্দর আব্বাসেও পাকিস্তান বায়ুসেনার বিমান দেখা গিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, ইরানের প্রতিনিধিদলকে ‘এসকর্ট’ করে নিয়ে আসবে পাক বায়ুসেনার বিমান। স্বাভাবিক ভাবেই আমেরিকা এবং ইরানের শান্তিবৈঠক নিয়ে উত্তেজনার পারদ বাড়তে শুরু করেছে।

Advertisement
আরও পড়ুন