গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আমেরিকা-ইরান সমঝোতা নিয়ে এ বার মুখ খুলল ইজ়রায়েল। প্রথম প্রতিক্রিয়াতেই তেল আভিভ জানাল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুক্তিকে মান্যতা দেওয়া ইজ়রায়েলের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়। নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে ইজ়রায়েল স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছে তারা।
সোমবার ভোরে (ভারতীয় সময়ে) ইরানের সঙ্গে শান্তিসমঝোতা চূড়ান্ত করার ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। আগামী শুক্রবার তা আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বাক্ষরিত হবে। ট্রাম্প এই ঘোষণা করার পর পরই এ বার নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিল ইজ়রায়েল। সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভিরের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক কোনও সমঝোতার জন্য ইজ়রায়েল কখনও নিজের নিরাপত্তাকে অবহেলা করবে না। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “ট্রাম্পের চুক্তি আমাদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়। ইজ়রায়েল আমেরিকার অন্তর্গত নয়। আমরা একটি স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র।”
হিজ়বুল্লা বা ইরানের মদতপুষ্ট অন্য কোনও গোষ্ঠীর আক্রমণ মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে ইজ়রায়েলের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা উচিত বলে মনে করছেন তিনি। “আমরা আমেরিকাকে ভালবাসি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু ইজ়রায়েল কোনও দুর্বল রাষ্ট্র (ব্যানানা রিপাবলিক) নয়।” আন্তর্জাতিক স্তরে অতীতে ইজ়রায়েলি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দেশের বিপক্ষে গিয়েছে বলেই মনে করেন সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী। তাঁর কথায়, “যত বার আমরা ইজ়রায়েলের নিরাপত্তার বদলে আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করেছি, তত বার আমাদের মূল্য চোকাতে হয়েছে।”
আমেরিকা-ইরান চুক্তি নিয়ে ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে ইজ়রায়েলি সূত্রে সিএনএন জানাচ্ছে, ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন নেতানিয়াহু। ট্রাম্প বর্তমানে জি৭ বৈঠকের জন্য ফ্রান্সের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। ইজ়রায়েলি সূত্রে সিএনএন জানাচ্ছে, ট্রাম্প জি৭ থেকে ফেরার পরই জরুরি ভিত্তিতে তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বসতে চাইছেন নেতানিয়াহু।
কী বিষয় নিয়ে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাইছেন, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়। তবে সূত্রের দাবি, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং নিজেদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে ‘উদ্বেগ’ নিয়েই মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চান ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী। সে ক্ষেত্রে লেবাননে হিজ়বুল্লা গোষ্ঠীর সঙ্গে ইজ়রায়েলের সংঘর্ষের বিষয়টিও উঠে আসতে পরে আলোচনায়।
ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লা দীর্ঘ দিন ধরেই লেবাননে সক্রিয়। তাদের সঙ্গে ইজ়রায়েলের সংঘর্ষও চলে আসছে অনেক দিন ধরে। রবিবারও লেবাননের রাজধানী বেইরুটে হামলা চালায় ইজ়রায়েলি বাহিনী। ওই হামলা নিয়ে অসন্তুষ্ট ট্রাম্পও। ইরান যুদ্ধের শেষ পর্বে বিভিন্ন সময়ে নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পের মতানৈক্য প্রকাশ্যে এসেছে। কখনও ফোনকলে কথা বলার সময়ে মেজাজ হারিয়েছেন ট্রাম্প, কখনও আবার প্রকাশ্যেই সমালোচনা করেছেন বন্ধু নেতানিয়াহুর।
উল্লেখ্য, ইরান শান্তিসমঝোতার অন্যতম পূর্বশর্ত ছিল লেবাননে হিজ়বুল্লার উপর হামলা বন্ধ করতে হবে ইজ়রায়েলকে। কিন্তু রবিবারও লেবাননের রাজধানী বেইরুটে হামলা চালিয়েছে তেল আভিভ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমেরিকা-ইরান শান্তির পথে ইজ়রায়েল-লেবানন সংঘাত কোনও বাধা হয়ে উঠবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন জাগতে শুরু করেছে। আমেরিকা-ইরানের পরবর্তী আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পথ খুলে দেবে কি ইজ়রায়েল? পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইরানের সশস্ত্র বন্ধু গোষ্ঠীগুলির ভূমিকাই বা কী থাকবে? এই বিষয়গুলি এখনও অস্পষ্ট।
ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজ়রায়েল কাট্জ়ও ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, লেবাননে যে ভূখণ্ডে তেল আভিভ নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে, সেই অঞ্চল তারা ছেড়ে দেবে না। একই রকম ভাবে সিরিয়া এহবং গাজ়াতেও নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড থেকে তারা সরবে না। সংবাদসংস্থা এপি জানাচ্ছে, গাজ়া, লেবানন এবং সিরিয়া মিলিয়ে গত আড়াই বছরে প্রায় ১০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকার ‘দখল’ নিয়েছে ইজ়রায়েল। এই অঞ্চল থেকে ইজ়রায়েল দখল না ছাড়লে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সে দিকে নজর থাকবে।