বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। —ফাইল চিত্র।
আমেরিকার বার্তায় ইরানের সঙ্গে ‘সাময়িক যুদ্ধবিরতি’তে রাজি হলেও লেবাননে সক্রিয় শিয়া জঙ্গিগোষ্ঠী হিজ়বুল্লার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাবে ইজ়রায়েল। লেবাননের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইজ়রায়েলি কূটনীতিক ইয়েচিয়েল লেইটার শনিবার বলেছেন, ‘‘লেবানন সরকারের সঙ্গে আমাদের কথা হবে। তবে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে নেই।’’ ইজ়রায়েল এবং লেবাননের মধ্যে আপাতত পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজ়রায়েল কাটৎজ় গত মঙ্গলবার শিয়া জঙ্গিগোষ্ঠী হিজ়বুল্লার বিরুদ্ধে অভিযান জারি রাখার ঘোষণা করে বলেছিলেন, ‘‘আমরা এ বার দক্ষিণ লেবাননের একাংশের দখল নেব।’’ এর পরে অবশ্য ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় শান্তিবৈঠকে রাজি হয়েছে ইজ়রায়েল। আগামী মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সেই বৈঠক হবে বলে জানিয়েছে সংবাদসংস্থা বিবিসি। লেবানন সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে ইজ়রায়েলি হামলার জেরে সে দেশে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২০০০।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে ইজ়রায়েলি সেনার হামলার পরেই প্রত্যাঘাত করেছিল তেহরানের মদতপুষ্ট ‘অ্যাক্সিস অফ রেজ়িস্ট্যান্স’। লেবাননের হিজ়বুল্লা, ইরাকের ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ (পিএমএফ) এবং আশাব আল-কাহ্ফ, ইয়েমেনের হুথির মতো সশস্ত্র শিয়া গোষ্ঠী রয়েছে সেই তালিকায়। তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইজ়রায়েলি সেনাও। কিন্তু লেবানন সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ইরানের মদতপুষ্ট ওই শিয়া সশস্ত্র বাহিনী লেবাননের গণতান্ত্রিক রাজনীতিরও অন্যতম অংশীদার। হিজ়বুল্লার রাজনৈতিক শাখা ‘লয়ালিটি টু দ্য রেজ়িস্ট্যান্স’-এর পার্লামেন্ট সদস্যদের সমর্থনের উপর লেবাননের জোট সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ভর করে। এই পরিস্থিতিতে লেবাননের পক্ষে হিজ়বুল্লা বিরোধী পদক্ষেপ করা কঠিন।