বায়ুসেনার রেডার। —ফাইল চিত্র।
সামরিক পরিভাষায় নাম ‘৪-ডি লং রেঞ্জ সার্ভিল্যান্স রেডার’। আদতে শত্রু বিমানের হামলা ঠেকাতে উচ্চ কম্পাঙ্কের অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা। পাল্লা অন্তত ৪৫০ কিলোমিটার। পাকিস্তান এবং চিনের যুদ্ধবিমানের মোকাবিলায় এ বার এমনই অত্যাধুনিক রেডার আমদানিতে সক্রিয় হল ভারতীয় বায়ুসেনা।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির কাছে ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত খুঁটিনাটি জানতে চেয়ে ‘রিকোয়েস্ট ফর ইনফরমেশন’ (আরএফআই) পাঠানো হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর। এই পদক্ষেপ ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে ওই সূত্রের দাবি। বর্তমানে বায়ুসেনা ব্যবহৃত ৩-ডি রেডারের তুলনায় অনেক নিখুঁত ভাবে শত্রুবিমানের অবস্থান, উচ্চতা ও গতিবেগ চিহ্নিত করতে পারে ‘৪-ডি লং রেঞ্জ সার্ভিল্যান্স রেডার’। এর সঙ্গেই সম্পৃক্ত রয়েছে ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার’, ‘ডেটা ফিউশন সিস্টেম’ এবং বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে যোগাযোগের সরঞ্জাম। যা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিখুঁত নিশানায় হামলার নির্দেশ দিতে পারে।
পঞ্চম এবং ষষ্ঠ প্রজন্মের লড়াকু স্টেল্থ যুদ্ধবিমানকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি ড্রোন এবং ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্রে হামলা ঠেকাতেও এই ‘চতুর্মাত্রিক রেডার’ কার্যকরী ভূমিকা নেবে বলে বায়ুসেনা সূত্রের খবর। ৪৫০ কিলোমিটার পাল্লা হওয়ার কারণে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের আকাশ বায়ুসেনার নজরদারির আওতায় এসে যাবে। নিরীক্ষণ করা যাবে চিন অধিকৃত তিব্বতে পিপল্স লিবারেশন এয়ার ফোর্সের তৎপরতার উপরেও। বিদেশি সংস্থাগুলির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ স্লোগান অনুসরণ করে এ ক্ষেত্রে দেশীয় সংস্থাগুলিকেও দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে চায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ভারতীয় প্রতিরক্ষা ও গবেষণা সংস্থা (‘ডিফেন্স রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজ়েশন’ বা ডিআরডিও) উচ্চ কম্পাঙ্কের (ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি বা ভিএইচএফ) রেডার ‘তৃতীয় নয়ন’ তৈরি করেছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে এটি তৈরি করেছে ডিআরডিও-র ‘ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড রেডার ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট’ শাখা। সংশ্লিষ্ট রেডারটির বাণিজ্যিক উৎপাদনের দায়িত্ব পেয়েছে আর এক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড’ (বেল)।