নরসিংদীতে নিহত যুবক চঞ্চলচন্দ্র ভৌমিক। ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশে নৃশংসতা থামছে না। ফের এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এ বার ঘটনাস্থল নরসিংদী। নিহতের নাম চঞ্চলচন্দ্র ভৌমিক। তিনি কুমিল্লার বাসিন্দা হলেও নরসিংদীতে একটি গাড়ির দোকানে কাজ করতেন। অভিযোগ, ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে।
নরসংদীর পুলিশ লাইন্স এলাকায় খানাবাড়ি মসজিদ মার্কেটের কাছে একটি গাড়ির দোকানে শুক্রবার গভীর রাতে আগুন লেগে যায়। অন্য দিনের মতো কাজ সেরে দোকানেই ঘুমোচ্ছিলেন বছর ২৩-এর চঞ্চল। ভোরে ভিতর থেকে তাঁর দগ্ধ দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দোকানের আশপাশের এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এখনও দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করা যায়নি। বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ওসি এআরএম আল মামুন জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার সময় দোকানের আশপাশে বেশ কয়েক জনকে দেখা গিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে তাঁদের যোগ রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোকানের মালিক লিখিত ভাবে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত চলছে।
কী কারণে এই হত্যা, স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকানের শাটারের নীচে আগুন ধরিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। ভিতরে পেট্রল এবং মবিল মজুত ছিল। ফলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরিকল্পিত ভাবে এই খুন করা হয়েছে বলে দাবি করছেন কেউ কেউ। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বেড়েছে বলে অভিযোগ। ভারত সরকার একাধিক বার তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিছু দিন আগে ময়মনসিংহে দীপু দাস নামের এক যুবককে খুনের পর দেহে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল উত্তেজিত জনতা। তার পর শরীয়তপুরে খোকন দাসকে খুন করা হয় কুপিয়ে। পর পর এই ধরনের ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।