US Bangladesh Relationship

বাংলাদেশে ভোট কী ভাবে করাতে হয় দেখিয়ে দেবেন! আমেরিকাকে বার্তা ইউনূসের, বন্ধ ভিসা চালু করারও আর্জি

ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসাবে সদ্য যোগ দিয়েছেন ব্রেন্ট। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন। বেশ কিছু ক্ষণ তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৬
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন আয়োজন করেছে, তা হবে দেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড। ভবিষ্যতের জন্য এই ভোট দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠকে এমনটাই মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। দাবি, এই ভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু এবং সার্বিক যোগদানমূলক।

Advertisement

ঢাকায় আমেরিকার দূতাবাসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসাবে সদ্য যোগ দিয়েছেন ব্রেন্ট। বৃহস্পতিবার তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কিছু ক্ষণ আলোচনা হয়। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানও বৈঠকে ছিলেন। আলোচনায় উঠে আসে বাংলাদেশ-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, সাধারণ নির্বাচন, শ্রম আইনের সংস্কার, রোহিঙ্গা সঙ্কট, বাণিজ্য চুক্তি এবং ভিসা বাতিলের প্রসঙ্গ। কিছু দিন আগে বাংলাদেশ-সহ মোট ৭৫টি দেশের মার্কিন অভিবাসন ভিসা স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করেছে আমেরিকা। তালিকায় পাকিস্তান, আফগানিস্তানও রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, এই দেশগুলির অভিবাসীদের কারণে আমেরিকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে। অভিবাসন নিরাপদ নিশ্চিত হলেই ভিসা দেওয়া হবে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, ভিসায় নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছেন ইউনূস।

ইউনূস জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের জন্য প্রচুর সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তাঁর কথায়, ‘‘এটা একটা উৎসবমুখর নির্বাচন হবে। ভবিষ্যতে ভাল নির্বাচনের মানদণ্ড তৈরি করবে এই নির্বাচন। আসুন, আমরা আশাবাদী থাকি।’’ বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, আসন্ন নির্বাচনের পর বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক দলই সরকার গঠন করুক, তিনি তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসাবে ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন ব্রেন্ট। নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগেরও প্রশংসা শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে।

বাংলাদেশের পণ্যে শুল্কের পরিমাণ হ্রাস করার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইউনূস। এখনও বাণিজ্য নিয়ে দুই দেশের আলোচনা চলছে। তিনি আশাবাদী, আগামী দিনে শুল্কের পরিমাণ আরও কমবে। এ ছাড়া, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে রোহিঙ্গাদের জন্য আমেরিকার আর্থিক সহায়তাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন ইউনূস।

Advertisement
আরও পড়ুন