বাইরাইনে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। ছবি: রয়টার্স।
পশ্চিম এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ১৪টি মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে এবং তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের মধ্যে দাবি করল ইরান। শুধু তা-ই নয়, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এটাও দাবি করেছে যে, এই হামলায় কয়েকশো মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে।
বাহরাইনে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে জুফেইর এলাকায় থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয় বলে দাবি ইরানের। বাহরাইনের জুফেইরে আমেরিকার নৌসেনা ঘাঁটি রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, জুফেইরে ভয়ানক বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা গিয়েছে। এ ছাড়াও কুয়েত, কাতার, জর্ডনেও মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি আইআরজিসি-র।
কাতারে মার্কিন সেনার আল উদেইদ বায়ুসেনাঘাঁটিতে হামলা হয়েছে। কুয়েতে আল সালিমে সেনাঘাঁটি এবং জর্ডনের মুয়াফ্ফক অল-সালতি সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়। এ ছাড়াও আবু ধাবিতেও আল ধাফরা সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। ইরান সেনার দাবি, সব মিলিয়ে মোট ১৪টি মার্কিন সেনাঘাঁটিকে ধ্বংস করেছে তারা।
পাশাপাশি হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে, আমেরিকার বাকি সেনাঘাঁটিগুলিতেও হামলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যদিও আমেরিকা ইরানের এই দাবিকে নস্যাৎ করে পাল্টা দাবি করেছে, তাদের সবক’টি সেনাঘাঁটিই অক্ষত রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, কোনও সেনা হতাহতের খবর নেই। প্রসঙ্গত, শনিবার সকাল থেকেই সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। তেহরান-সহ ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে পর পর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইজ়রায়েল। পরে সেই অভিযানে যোগ দেয় আমেরিকাও। দুই দেশ একযোগে হামলা শুরু করে। পাল্টা হামলা শুরু করে ইরানও। ইজ়রায়েলের রাজধানী তেল আভিভে একের পর এক হামলা চালায় ইরান। যত সময় গড়িয়েছে দু’পক্ষের মধ্যে হামলা আরও জোরালো হয়েছে। তার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা দাবি করে, খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। যদিও ইরান দাবি করে, সর্বোচ্চ নেতা সুরক্ষিত এবং সুস্থই আছেন। তবে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল জোরের সঙ্গে দাবি করে খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তাদের সেই দাবি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান প্রশাসন থেকে খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়। একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে এ বার পুরো শক্তি কাজে লাগিয়ে হামলা চালাবে তারা।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকার টানাপড়েনের সূত্রপাত পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। ইরানকে পরমাণু গবেষণা এবং কর্মসূচি বন্ধ করতে বার বার সতর্ক করে আমেরিকা। কিন্তু তার পরেও আমেরিকার রক্তচক্ষুর কাছে নতিস্বীকার করেনি ইরান। ইরানের অনমনীয় মনোভাবে ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। দুই দেশের টানাপড়েনে দাঁড়ি টানতে বেশ কয়েক বার বৈঠকও হয়। কিন্তু কোনও সমাধানসূত্র বার হয়নি। সম্প্রতি সুইৎজ়ারল্যান্ডেও বৈঠকে বসেছিল দু’দেশ। সেই বৈঠকও ফলপ্রসূ হয়নি। তার পরই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি তাদের অবস্থান থেকে সরে না আসে, তা হলে এর ফল ভুগতে হবে। সেই হুঁশিয়ারি কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানে হামলা চালায় ইজ়রায়েল, তার পর আমেরিকা। প্রসঙ্গত, আমেরিকার পাশে দাঁড়িয়ে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরোধিতা করেছিল ইজ়রায়েলও।