US Israel Strike on Iran

নিজের অফিসে কাজ করছিলেন খামেনেই, আচমকা হামলা! মৃত্যু তাঁর কন্যা, নাতনিরও, আর কী জানাল ইরানের সংবাদমাধ্যম

ইরানের বাহিনী রেভলিউশনারি গার্ড জানিয়েছে, খামেনেইয়ের মৃত্যুতে তারা শোকাহত। তবে প্রত্যাঘাত হবে। ‘ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র হামলা’র হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৬ ০৮:২৫
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। —ফাইল চিত্র।

নিজের অফিসে বসে কাজ করছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। আচমকা সেখানেই বোমা এসে পড়ে। তাঁর সঙ্গে মৃত্যু হয় তাঁর কন্যা, জামাই এবং নাতনিরও। ইরানের সংবাদমাধ্যম এমনটাই জানাচ্ছে। দেশের সরকারি সংবাদসংস্থা আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে উল্লেখ করেছে।

Advertisement

সংবাদসংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘হামলার সময় খামেনেই নিজের কাজের জায়গায় ছিলেন এবং দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই কাপুরুষোচিত হামলাটি হয়েছে শনিবার ভোরের দিকে।’’ খামেনেইয়ের পরিবারের কথা বলতে গিয়ে বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘‘সর্বোচ্চ নেতার বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা তাঁর কন্যা, জামাই এবং নাতনির শহিদ হওয়ার খবর পাই।’’

ইরানের বাহিনী রেভলিউশনারি গার্ড জানিয়েছে, খামেনেইয়ের মৃত্যুতে তারা শোকাহত। তবে প্রত্যাঘাত হবে। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বাহিনীকে নিশানা করে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র হামলা’র হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। বলা হয়েছে, সেই তীব্রতম হামলা শুরু হবে আর কিছু ক্ষণের মধ্যেই। খামেনেইয়ের মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরেও যে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ বন্ধ হচ্ছে না, তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি জানিয়েছেন, ইরানে শান্তি ফেরাতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ সেখানে বোমাবর্ষণ চলবে। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও সেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

শনিবার রাতেই খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘সবেচেয়ে খারাপ লোক খামেনেই নিহত। ইতিহাসের পাতায় অন্যতম কুখ্যাত ব্যক্তি খামেনেই। তাঁর বাহিনীর হাতে যাঁদের অঙ্গহানি বা মৃত্যু হয়েছে তাঁদের প্রতি ন্যায়বিচার হল।’’ খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছিল ইজ়রায়েল। দাবি, খামেনেইয়ের সম্পূর্ণ এলাকাই উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার সকাল থেকে ইরানে আক্রমণ শুরু করে ইজ়রায়েল। পরে জানা যায়, আমেরিকার সেনাও হামলায় সহায়তা করছে। যৌথ বাহিনীর হামলায় মুহুর্মুহু বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন আছড়ে পড়ছিল তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। পাল্টা প্রত্যাঘাত করে ইরানের বাহিনীও। তারা শুধু ইজ়রায়েলে নয়, সমগ্র পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই, আবু ধাবিতে বোমা পড়ে। খালি করা হয় বুর্জ খলিফাও। এ ছাড়া, কাতার এবং সৌদি আরবেও ইরান হামলা চালিয়েছে আমেরিকার ঘাঁটি লক্ষ্য করে। পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন