প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ় প্রণালীর উপর নজরদারি চালানোর সময় গায়েব হয়ে গেল মার্কিন নৌসেনার নজরদারি ড্রোন এমকিউ-৪সি ট্রিটন। আমেরিকার সবচেয়ে দামি এই ড্রোন। এক একটি ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় ২০ কোটি মার্কিন ডলার। মার্কিন সেনার এই ড্রোন আচমকা গায়েব হয়ে যাওয়া নিয়ে রহস্য বাড়ছে।
বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন এই নজরদারি ড্রোন পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ় প্রণালীর উপরে তিন ঘণ্টা ধরে নজরদারি চালিয়ে ইটালির সিগোনেলা নৌসেনাঘাঁটিতে ফিরছিল। কিন্তু তার আগেই সেটি উধাও হয়ে যায়। ফ্লাইটরেডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ইরানের দিকে সামান্য বাঁক নিয়েছিল। ঠিক তখনই জরুরি বার্তা যায় সেটি থেকে। ৭৭০০ কোড পাঠানো হয় ড্রোন থেকে (যেটি জরুরি ভিত্তিতে অবতরণের জন্য সঙ্কেত)। তার পরই সেটি অবতরণ করতে শুরু করে। কিন্তু একটু পরেই সেটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হরমুজ়ের উপরে শেষ বার দেখা গিয়েছিল ড্রোনটিকে। ফ্লাইটরেডার২৪-এর রেকর্ডে তাই-ই দেখানো হয়েছে। ড্রোনটি ভেঙে পড়েছে না কি গুলি করে সেটিকে নামানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
প্রসঙ্গত, গত বুধবারই ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণ হয়েছে। পাকিস্তানে শনিবার সমধোতা বৈঠকেরও আয়োজন করা হয়েছে। তার মধ্যেই মার্কিন ড্রোন নিখোঁজের এই ঘটনায় পরিস্থিতি কি নতুন করে উত্তপ্ত হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। উপসাগরীয় অঞ্চলে নজরদারি চালানোর জন্য মার্কিন সেনার এই ড্রোনকে মোতায়েন করা হয়েছিল। এই ড্রোন টানা উড়তে পারে। হরমুজ় কোথায় কোথায় অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে, তা নিয়ে নজরদারি চালাতে কাজে লাগানো হয়েছিল এই ড্রোনকে। ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা দিয়ে উড়তে সক্ষম এই ড্রোন। ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় টানা উড়তে পারে।