Cabinet Formation in Bangladesh

তারেকের ৫০ জনের মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন মাত্র তিন মহিলা, মন্ত্রী হলেন ইউনূস সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাও

তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। তিনি টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হলেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩২
শপথ নিচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শপথ নিচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: রয়টার্স।

নতুন এবং পুরনো সংসদ সদস্যদের নিয়ে নিজের মন্ত্রিসভা সাজালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশের নতুন সরকারের ৫০ জনে (তারেক-সহ ২৬ জন পূর্ণমন্ত্রী আর ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী) মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন তিন জন মহিলা। তাঁদের মধ্যে এক জন পূর্ণমন্ত্রী হচ্ছেন। দু’জন প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন। পূর্ণমন্ত্রী হচ্ছেন আফরোজা খানম রিতা। প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন ফারজানা শারমিন পুতুল এবং শামা ওবায়েদ। নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানও। তিনি টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হলেন।

Advertisement

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৬(২) অনুসারে, সে দেশের প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভায় সংসদের সদস্য নন এমন ব্যক্তিদেরও নিয়োগ করতে পারেন। তবে তাঁদের সংখ্যা হবে মন্ত্রিসভার মোট সদস্যের মাত্র এক-দশমাংশ। একেই বলা হয় টেকনোক্র্যাট কোটা। কোনও বিশেষ বিষয়ের উপর ব্যুৎপত্তি থাকা ব্যক্তিকেই এই কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়।

সাড়ে ৩টে নাগাদ (বাংলাদেশের সময় অনুসারে) বাংলাদেশের সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজ়ায় নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন বিএনপি-র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তারেকের পর শপথ নেন অন্য মন্ত্রীরা। পৃথক ভাবে তাঁদের সবাইকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ক্ষমতায় ছিল বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তারেকের মাতা, প্রয়াত বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। ২০ বছর পর ফের বাংলাদেশে ক্ষমতায় এল বিএনপি। মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে ১৭ জনই নতুন। প্রথম বারের জন্য মন্ত্রিসভায় এলেন প্রধানমন্ত্রী তারেকও। প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ২৪ জনই নতুন।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২১২টিতে জয়ী হয়েছে বিএনপি। এ বার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে মাত্র সাত জন মহিলা নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছ’জনই বিএনপি-র প্রার্থী ছিলেন। এক জন ছিলেন নির্দল প্রার্থী। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশে যথাক্রমে ১৮, ২৩ ও ১৯ জন মহিলা সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তারেক ছাড়াও মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সালাহউদ্দিন আহমেদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল আওয়াল মিন্টু, এ জে এম জাহিদ হোসেন, মিজানুর রহমান মিনু, মহম্মদ আসাদুজ্জামান, আফরোজা খানম রিতা, নিতাই রায় চৌধুরী, আরিফুল হক চৌধুরী।

প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম (অমিত), শরীফুল আলম, মীর শাহে আলম, ফরহাদ হোসেন আজাদ, শামা ওবায়েদ, কায়সার কামাল, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ সাকি, জাকারিয়া তাহের (সুমন), ইশরাক হোসেন, আমিনুর রশীদ ইয়াছিন, ফারজানা শারমিন পুতুল, নুরুল হক নুর। টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন আমিনুল হক।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। ভারতের প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। পাকিস্তানের তরফে উপস্থিত ছিলেন সে দেশের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক মন্ত্রী আহসান ইকবাল চৌধুরী। শপথের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় ১০ জনকে উপদেষ্টা পদে নিয়োগ করলেন বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্ত্রী পদমর্যাদায় নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, মহম্মদ ইসমাইল জবিউল্লাহ, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ও রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় জাহেদ উর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, রেহান আসিফ আসাদ ও মাহাদি আমিনকে উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। নয়া মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছিলেন মাত্র তিন জন মহিলা। ঘটনাচক্রে, উপদেষ্টাদের মধ‍্যে এক জনও মহিলা নেই।

Advertisement
আরও পড়ুন