বাংলাদেশে বিএনপি প্রধান তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারে দলের সমর্থকেরা। ঢাকায়। ছবি: রয়টার্স।
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে রবিবার থেকে রাস্তায় নেমে কাজ শুরু করল সে দেশের সেনা-সহ সব নিরাপত্তা বাহিনী। ভোটের সময়ে দায়িত্ব পালন করবেন দেড় হাজারের বেশি এগ্জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটও। তবে এর মধ্যেই অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা হচ্ছে। মূলত, আনসার এবং ভিডিপি (গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী)-কে সেই কাজে লাগানো হতে পারে।
আগামী বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট। সেই ভোট অবাধ এবং সুষ্ঠু ভাবে করতে বদ্ধপরিকর সে দেশের নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, এ দিন থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে সেনাবাহিনী ভোটের আগে-পরে সাত দিন আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবে। সূত্রের খবর, এ বার বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লক্ষ ৭০ হাজারের বেশি সদস্য নির্বাচনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে বেশি কর্মী থাকছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর।
বাংলাদেশের প্রশাসনের একাংশ সূত্রের খবর, ভিডিপি-র মহাপরিচালক আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, অন্তত ৩৩০০ ছাত্র শিবির ও হিজবুত তাহরীরের কর্মীকে আনসারে নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিপুল অর্থের বিনিময়ে আরও প্রায় ৩০০০ ব্যাটালিয়ন আনসার নিয়োগের কথাও বলা হচ্ছে বিভিন্ন মহলের অভিযোগে। যার ফলে ডিভিপি-র নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই বিষয়ে আরও কয়েকটি অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের দিন আনসার সদস্যদের কাজকর্মে নজর রাখা হবে এভিএমআইএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে। কিন্তু অভিযোগ, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কেন্দ্রভিত্তিক সরাসরি নির্দেশ দেওয়া, এমনকি গোপন বার্তা পাঠিয়ে ভোটগ্রহণে বাধা সৃষ্টি বা জটিলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে, আনসার এবং ভিডিপি-র রাজনৈতিক আনুগত্য নিয়েও।
একটি মহলের দাবি, ভিডিপি-র মহাপরিচালকের রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ছাত্রজীবন থেকে তাঁর রাজনৈতিক আনুগত্য ছিল জামায়াতে ইসলামীর প্রতি। জামাত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ডেপুটেশন আদেশের বাইরে তিন সেনা কর্মকর্তাকে নিয়োগ— এ সব বিষয়ে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারণী মহলের নীরব সমর্থনও এতে জড়িত।
২০২৪ সালের ১২ অগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর, ২৫ অগস্ট সচিবালয়ে আনসার সদস্যদের উপর হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে, একাংশ সদস্যকে রাজনৈতিক তকমা দিয়ে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এটি ছিল বাহিনীর ভিতর রাজনৈতিক পুনর্গঠনের অংশ।
বাংলাদেশে বহু দিন ভোটের দায়িত্ব সামলানো এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারের কথায়, ‘‘ভোটকেন্দ্র পাহারা, ব্যালটের নিরাপত্তা, ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ— এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি যদি প্রশ্নের মুখে পড়ে, তবে নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।’’ প্রশাসনিক মহলের একটা বড় অংশের মতে, গণতন্ত্রের শক্তি শুধু ভোটে নয়, ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতায়। আর সেই বিশ্বাস যদি কোনও ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে শুধু নির্বাচনটাই থাকে, গণরায় হারিয়ে যায়।