Greenland Tension

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে মোতায়েন হচ্ছে সামরিক বিমান, উদ্দেশ্য ঘিরে রহস্য! উত্তেজনার মাঝে সৈন্য পাঠাচ্ছে ডেনমার্কও

কী কারণে সামরিক বিমান পাঠানো হচ্ছে গ্রিনল্যান্ডের মার্কিন ঘাঁটিতে, তা-ও খোলসা করা হয়নি বিবৃতিতে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আচমকা এই ঘোষণায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার গ্রিনল্যান্ডে আরও সৈন্য পাঠিয়েছে ডেনমার্কও।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:১৭
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন ঘাঁটিতে পাঠানো হচ্ছে আরও সামরিক বিমান। শীঘ্রই তা পৌঁছে যাবে গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম উপকূলের পিতুফিকে আমেরিকার সেনাঘাঁটিতে। সোমবার এমনটাই ঘোষণা করেছে নর্থ আমেরিকান এরোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (নোরাড)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ভাবে গ্রিনল্যান্ড ‘দখলের’ চেষ্টায় উঠেপড়ে লেগেছেন, তাতে এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

Advertisement

আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ‘নেটো’-র অন্যতম সদস্য ডেনমার্ক। ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা গ্রিনল্যান্ডেও মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। সেখানে আমেরিকার সেনাও মোতায়েন রয়েছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নোরাড (আমেরিকা এবং কানাডার যৌথ সামরিক কার্যকলাপ পরিচালনা কেন্দ্র)-এর সামরিক বিমান মার্কিন ঘাঁটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

কী কারণে সামরিক বিমান পাঠানো হচ্ছে গ্রিনল্যান্ডের মার্কিন ঘাঁটিতে, তা-ও খোলসা করেনি নোরাড। সোমবার বেশি রাতের দিকে (ভারতীয় সময় অনুসারে) নোরাড সমাজমাধ্যমে ঘোষণা করে, তাদের সামরিক বিমান শীঘ্রই গ্রিনল্যান্ডের ‘পিটুফিক স্পেস বেস’-এ পৌঁছে যাবে। তাদের দাবি, এই কার্যক্রম পূর্বপরিকল্পিতই ছিল। ডেনমার্কের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক অনুমোদন নিয়েই এই কার্যক্রম হচ্ছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রশাসনকেও এ বিষয়ে আগাম জানানো হয়েছে বলে দাবি নোরাডের। তবে কী ধরনের ‘পূর্বপরিকল্পিত’ কাজ সেখানে হবে, তা ওই বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে এই সামরিক কার্যক্রমের নেপথ্যে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিয়ে রহস্য রয়েই গিয়েছে।

গ্রিনল্যান্ডের এই মার্কিন ঘাঁটিতে আগেও সামরিক কার্যকলাপ চালিয়েছে নোরাড। ২০২২ এবং ২০২৩ সালে, এমনকি গত বছরেও নোরাডের কার্যকলাপ চলেছে পিতুফিক ঘাঁটিতে। তবে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন গ্রিনল্যান্ড ‘দখল’ করার জন্য কূটনৈতিক স্তরে সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তাঁর দাবিকে সমর্থন না-করার জন্য ডেনমার্ক-সহ আট ইউরোপীয় দেশের উপর শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছেন তিনি। তালিকায় রয়েছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশগুলিও। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডেনমার্কও বার বার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। জানিয়ে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাদের হাতেই। আমেরিকার ধারাবাহিক হুমকির মুখে তারাও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, গ্রিনল্যান্ড দখল করতে গেলে ডেনমার্কের সেনা আগে গুলি চালাবে, তার পরে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবে।

গত কয়েক দিন ধরে গ্রিনল্যান্ডে আরও বেশি সেনা মোতায়েন করতে শুরু করেছে ডেনমার্ক। সোমবারও বাহিনী পাঠানো হয়েছে সেখানে। সেই ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছে ডেনমার্কের ডিফেন্স কমান্ডও। দু’টি সামরিক বিমান থেকে সৈন্যদের নামতে দেখা যাচ্ছে ছবিগুলিতে। এই পরিস্থিতিতে নোরাড সামরিক বিমান পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বস্তুত, গ্রিনল্যান্ড ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের বাইরে হলেও এই আধা স্বশাসিত দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ডেনমার্কের হাতে। গত প্রায় ৩০০ বছর ধরে এই দ্বীপটিকে নিয়ন্ত্রণ করছে ডেনমার্ক। নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলি পরিচালনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করেন গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসিত কর্তৃপক্ষ। বিদেশ এবং প্রতিরক্ষানীতি সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় ডেনমার্ক সরকার।

Advertisement
আরও পড়ুন