(বাঁ দিক) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার কথা জানিয়েছে আমেরিকা এবং ইরান। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান আমেরিকার কাছে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে। এই দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম হল, পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র দিতে হবে আমেরিকাকে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরানের এই দাবি মেনে নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও সংবাদসংস্থা এপি-র প্রতিবেদন অনুসারে, ফার্সি ভাষায় লেখা ইরানের দাবিসনদে ওই বিষয়টির উল্লেখ থাকলেও ইংরেজিতে সেটি অনুপস্থিত ছিল!
স্বাভাবিক ভাবেই ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবির সত্যতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এপি-র প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে যে, ইংরেজি ভাষায় লেখা দাবিসনদে ‘আমেরিকার সমৃদ্ধকরণ মেনে নেওয়ার’ বিষয়টির উল্লেখই নেই। অথচ ফার্সি (ইরানের স্থানীয় ভাষায়) ভাষায় লেখা দাবিসনদে সেটি জ্বলজ্বল করছে। আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিক কাজে ইংরেজিই পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রায় একমাত্র মাধ্যম। সেখানে স্থানীয় ভাষায় বিষয়টি উল্লেখ করেও ইরান ইংরেজিতে কেন বিষয়টির অবতারণা করল না, তা স্পষ্ট নয়।
ইরানের হাতে ৪০০ থেকে ৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। যা পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজে লাগতে পারে। এই ইউরেনিয়াম নিয়েই বার বার প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এমনকি, এর আগে ইরানের কাছে যে শর্ত পাঠানো হয়েছিল, তার মধ্যে হরমুজ়কে উন্মুক্ত করা ছাড়াও এই ইউরেনিয়াম সংক্রান্তও শর্ত ছিল। প্রসঙ্গত, ট্রাম্প এর আগেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানের হাতে ইউরেনিয়াম থাকা বিশ্বের পক্ষে বিপজ্জনক। সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ট্রাম্প সত্যিই ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার ‘ছাড়পত্র’ দিলেন কি না, তা নিয়ে সংশয় অবশ্য রয়েই গেল।