Bangladesh Cricket

বাংলাদেশের ক্রিকেটে ডামাডোল! নতুন সভাপতি তামিমের নিয়োগ অবৈধ, বললেন বিদায়ী সভাপতি আমিনুল, গদি ছাড়তে নারাজ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচিত কমিটিকে সরিয়ে অ্যাডহক কমিটি বসিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন কমিটি তিন মাস দায়িত্বে থাকবে। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ অপসারিত সভাপতি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:২৪
picture of cricket

(বাঁ দিকে) তামিম ইকবাল এবং আমিনুল ইসলাম বুলবুল (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে অশান্তি আরও বাড়ল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচিত পরিচালন পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এই সিদ্ধান্ত মানতে রাজি নন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। অপসারিত বিসিবি সভাপতি দায়িত্ব ছাড়তে নারাজ। এনএসসির সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক হিসাবে দেখছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থায় (আইসিসি) অভিযোগ জানানোর কথাও বলেছেন।

Advertisement

গত অক্টোবরে বিসিবির নির্বাচন হয়েছিল। তারেক রহমানের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কিছু ক্লাব ওই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অনিয়ম এবং অস্বচ্ছতার অভিযোগ দায়ের করে এনএসসিতে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে। তারই পদক্ষেপ হিসাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে নির্বাচিত পরিচালন পর্ষদ। গত রবিবার প্রাক্তন বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেয়। কমিটি মন্ত্রককে জানিয়েছে, বিসিবি কর্তারা তদন্তের কাজে সহযোগিতা করেননি। বিসিবি সভাপতি কমিটির মুখোমুখি হতে চাননি। বরং বিভিন্ন সময়ে নানা সমস্যা তৈরি করেছেন। তার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এনএসসির এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন আমিনুল। তাঁর দাবি, তিনিই বিসিবির সভাপতি। তামিমকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের মাথায় বসানোর জন্যই এনএসসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেছেন আমিনুল। তিনি বলেছেন, ‘‘তামিমের নিয়োগ অসাংবিধানিক এবং অবৈধ।’’ আইসিসির গঠনতন্ত্রের উল্লেখ করে আমিনুল বলেছেন, ‘‘সদস্য বোর্ডগুলোকে অবশ্যই সরকারি হস্তক্ষেপ মুক্ত হয়ে কাজ করতে হবে। ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্যোগে শুরু হওয়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তদন্ত রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘আমরা চাই নির্বাচিত বোর্ডকে বহাল রাখতে আইসিসি হস্তক্ষেপ করুক। আইসিসি অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখুক এবং নিশ্চিত করুক যাতে কোনও অবৈধ কমিটি কাজ করতে না পারে।’’ সরকারি বিজ্ঞপ্তির কথা মনে করিয়ে দিয়ে আমিনুল বলেছেন, হাই কোর্ট বা অন্য কোনও আদালত নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরই বিসিবি সভাপতি থাকার কথা।

এনএসসি নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়। স্পোর্টস ডিরেক্টর মহম্মদ আমিনুল এহসান বলেছেন, ‘‘নির্বাচন প্রক্রিয়া অবাধ, স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠু ছিল না। ভোটারদের ভয় দেখানো হয়েছিল এবং ব্যাপক পদ্ধতিগত অনিয়ম ছিল। নির্বাচিত বোর্ডের বিরুদ্ধে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ সরকারের হাতে রয়েছে।’’ বিসিবি সভাপতি তাঁর অধিকারের বাইরে গিয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং পছন্দের ব্যক্তিদের বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়ে এসেছেন বলে জানিয়েছেন এহসান। যা বিসিবির সংবিধানের পরিপন্থী।

আমিনুলের অনড় মনোভাব বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন সঙ্কট তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিসিবির গত নির্বাচনে সভাপতি পদে আমিনুলের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন তামিম। তবে অনিয়ম এবং অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান প্রাক্তন ওপেনার। সরকার সেই তামিমকেই বিসিবির মাথায় বসিয়ে দেওয়াকে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশও রাজনীতি বলেই মনে করছেন।

Advertisement
আরও পড়ুন