Iran War

‘ইরানের বন্দরগুলিতে অবরোধ জারি রাখলে যুদ্ধবিরতির পথ কঠিন হবে’, ট্রাম্পকে বার্তা পাক সেনা সর্বাধিনায়কের

টেলিফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় ফিল্ড মার্শাল মুনির ইরানের বন্দরগুলির উপর মার্কিন নৌসেনার অবরোধ তোলার পক্ষে সওয়াল করেছেন বলে পাক সংবাদমাধ্যমগুলির একাংশের দাবি। আলোচনা হয়েছে ইরানের বাণিজ্যতরী দখল নিয়েও।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৫০
(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প, আসিম মুনির (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প, আসিম মুনির (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করলেন পাকিস্তানের সেনা সর্বাধিনায়ক আসিম মুনির। আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতির পথ এখনও অধরা। হরমুজ় প্রণালীর কাছে ইরানের পণ্যবাহী জাহাজ মার্কিন মেরিন বাহিনী দখল করায় সোমবার থেকে ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনার পারদ চড়েছে নতুন করে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় ফিল্ড মার্শাল মুনির ইরানের বন্দরগুলির উপর মার্কিন নৌসেনার অবরোধ তোলার পক্ষে সওয়াল করেছেন বলে পাকিস্তান সরকারের একটি সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

Advertisement

প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে, মুনিরের পরামর্শ বিবেচনা করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন ট্রাম্প। প্রসঙ্গত, চলতি মাসের গোড়ায় ইরানের সঙ্গে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সামরিক এবং কূটনীতি পর্যবেক্ষকদের একাংশের আশঙ্কা, হরমুজ়ে আমেরিকার অবরোধ এবং ইরানি জাহাজ দখলকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা মঙ্গলবারের আগেই ফের সংঘর্ষ শুরু করে দিতে পারে। এর মধ্যে পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসার কথা ছিল ইরান এবং আমেরিকার প্রতিনিধিদের। ট্রাম্প আলোচনার জন্য প্রতিনিধিদল পাঠিয়েও দিয়েছেন। কিন্তু তেহরান বৈঠক খারিজ করে দিয়েছে। জানিয়েছে, আমেরিকার অতিরিক্ত চাহিদা এবং হরমুজ়ে অবরোধের কারণে বৈঠকে যোগ দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

টেলিফোন কথোপকথনে মুনির সোমবার ট্রাম্পকে বলেছেন, দ্বিতীয় দফার শান্তিবৈঠকের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় ইরানের বন্দরগুলির উপর মার্কিন অবরোধ। ঘটনাচক্রে, হরমুজ়ের অদূরে বাণিজ্যতরী দখল নিয়ে সোমবারই ইরান প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, জাহাজটি চিন থেকে পণ্য পরিবহণ করে ইরানে আসছিল। এই জাহাজ দখল করে নেওয়াকে আমেরিকার ‘সশস্ত্র ছিনতাই’ বলে উল্লেখ করেছে তেহরান। তাদের দাবি, শীঘ্রই এর জবাব দেবে ইরানের সেনাবাহিনী। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলে অনেকে মনে করছেন। প্রসঙ্গত, আমেরিকা এবং ইরানের সমঝোতা প্রক্রিয়ায় প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। যদিও ইসলামাবেদে প্রথম দফার বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। প্রথম দফার বৈঠকের পরেই মুনির তেহরানে গিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

Advertisement
আরও পড়ুন