Israel on Pakistan

‘ক্যানসারের মতো একটা দেশ ইজ়রায়েল’! নেতানিয়াহুর কড়া বার্তার পরেই বিতর্কিত পোস্ট মুছে দিলেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী

আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হলেও লেবাননে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজ়বুল্লার ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েল। বৃহস্পতিবার তা নিয়েই ক্ষোভপ্রকাশ করেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২২
(বাঁ দিকে) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ এবং ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ এবং ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

রণে ভঙ্গ দিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। বৃহস্পতিবার ইজ়রায়েলকে ‘ক্যানসারের’ সঙ্গে তুলনা করে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছিলেন তিনি। স্বাভাবিক ভাবেই ওই পোস্ট নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে ওই মন্তব্যের সমালোচনা করা হয়। ঘটনাচক্রে, শুক্রবার সকালে দ‌েখা যায়, বিতর্কিত পোস্টটি মুছে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। শনিবার ইসলামাবাদে বৈঠকে বসার কথা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হলেও লেবাননে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজ়বুল্লার ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েল। বৃহস্পতিবার তা নিয়েই ক্ষোভপ্রকাশ করেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লেখেন, “প্রথমে গাজ়া, পরে ইরান আর এখন লেবানন, ইজ়রায়েলের হাতে নিরীহ মানুষেরা খুন হচ্ছেন।” একই সঙ্গে ইজ়রায়েলকে তোপ দেগে তিনি লেখেন, “আমার প্রার্থনা এই যে, প্যালেস্টাইনের জমিতে ইউরোপীয় ইহুদিদের জন্য যাঁরা ক্যানসারের মতো এই দেশটিকে তৈরি করেছিলেন, তাঁরা যেন নরকে গিয়ে দগ্ধ হয়ে মরেন।” ইজ়রায়েলকে ‘শয়তান’ এবং ‘মানবতার শত্রু’ বলেও তোপ দেগেছিলেন তিনি।

এই পোস্টের পরেই নেতানিয়াহুর দফতরের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে লেখা হয়, “যে দেশ দাবি করছে যে, তারা নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী, সেই দেশের সরকারের তরফে এই ধরনের মন্তব্য সহ্য করা হবে না।” পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ওই মন্তব্যের সমালোচনা করেন ইজ়রায়েলের বিদেশমন্ত্রী গিদিয়ন সার-ও। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে নেতানিয়াহু মন্ত্রিসভার এই সদস্য লেখেন, “যে সমস্ত সন্ত্রাসবাদী ইজ়রায়েলের ধ্বংস চায়, আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে লড়তে জানি।” ঘটনাচক্রে, ইজ়রায়েলের কড়া বার্তার পরেই বিতর্কিত পোস্টটি মুছে দেওয়া হয়। এই দুই ঘটনার সঙ্গে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। শাহবাজ় সরকার বা পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর তরফে পোস্ট মুছে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ দাবি করেছিলেন, যুদ্ধবিরতির মূল বিষয়গুলির মধ্যে লেবাননের প্রসঙ্গও ছিল। নেতানিয়াহুর যুদ্ধবিরতির উদ্যোগকে সমর্থন জানালেও তিনি জানিয়ে দেন, লেবানন এর অন্তর্ভুক্ত নয়। একই কথা জানান, ইরানের সঙ্গে শান্তিবৈঠকে আমেরিকার প্রতিনিধি তথা সে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সও। ইরানের অবশ্য দাবি, যুদ্ধবিরতির শর্তে সর্বত্রই হামলা বন্ধের কথা বলা হয়েছে। এই চাপানউতরের মধ্যেই গত দু’দিনে ইজ়রায়েলের হামলায় লেবাননে ২৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে রিপোর্টে প্রকাশ। জখম হয়েছেন হাজারের বেশি। সবচেয়ে বেশি হতাহতের খবর মিলেছে লেবাননের রাজধানী বেইরুটে। এই হামলার প্রতিবাদে হরমুজ় প্রণালী ফের ‘অবরুদ্ধ’ করে দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার অবশ্য নেতানিয়াহু হিজ়বুল্লাকে নিরস্ত্র করতে লেবানন সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বলেছেন ইজ়রায়েলের মন্ত্রীদের। আগামী সপ্তাহেই ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে বৈঠক হতে পারে।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের সঙ্গে ইজ়রায়েলের প্রথাগত কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এই পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে তেল আভিভ যে ইসলামাবাদকে বিশ্বাস করে না, একাধিক বার তার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারই পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রসঙ্গে ভারতে নিযুক্ত ইজ়রায়েলি রাষ্ট্রদূত রেউভেন আজ়ার জানিয়েছিলেন যে, শান্তিবৈঠকের ক্ষেত্রে তাঁরা পাকিস্তারকে নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারী বলে মনে করেন না।

Advertisement
আরও পড়ুন