Iran Attack on Strait of Hormuz

হরমুজ়ে পণ্যবাহী জাহাজে হামলা করল ইরান! ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে নাকচ করে অবরোধ তোলার দাবি

ব্রিটেনের ‘মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ জানিয়েছে, কোনও আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই ওমান থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে পণ্যবাহী একটি জাহাজের কাছে আইআরজিসির গানবোট চলে এসে গুলি চালায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:০৮
Revolutionary Guard Corps of Iran fires at two ships in Strait of Hormuz hours after Donald Trump’s ceasefire announcement

হরমুজ়ে অপেক্ষারত জাহাজ। ছবি: রয়টার্স।

মার্কিন প্রেডিসেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করার পরেও হামলায় ইতি টানল না ইরান। এ বার তাদের নিশানায় একটি দু’টি পণ্যবাহী জাহাজ। বুধবার হকমুজ় প্রণালীর ওমান ইপকূলবর্তী অঞ্চলে ইরানের ইসলামি রিপাবলিকান গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জাহাজ দু’টিতে হামলা চালায় বলে ব্রিটেনের দাবি।

Advertisement

ব্রিটেনের ‘মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, কোনও আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই ওমান থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে পণ্যবাহী একটি জাহাজের কাছে আইআরজিসির গানবোট চলে এসে ভারী মেশিনগান থেকে গুলি চালায়। এতে জাহাজটির নিয়ন্ত্রণকক্ষ বা ‘ব্রিজ’ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য দিকে, ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী বারবার সতর্ক করার পরও জাহাজটি সাড়া দেয়নি। তাই ‘সমুদ্র আইন’ অনুযায়ী ওই জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ওই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই অন্য একটি পণ্যবাহী জাহাজে ইরান ফৌজের হামলার কথা জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এপি। ট্রাম্প মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করার সময় হরমুজ় প্রণালীকে ঘিরে নৌ-অবরোধ জারি রাখার কথাও ঘোষণা করেন। তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘‘আমি সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছি, নৌ-অবরোধ যেমন ছিল তেমনই থাকবে, এবং যে কোনও পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হবে, যত দিন পর্যন্ত শান্তি আলোচনা সম্পূর্ণ না হচ্ছে।’’ রাষ্ট্রপুঞ্জে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি বুধবার জানান, ওয়াশিংটন অবরোধ তুলে নিলে তেহরানও হামলা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে বসবে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার গভীর রাতে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘‘যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরান সরকারের অন্দরে গুরুতর মতবিরোধ চলছে। সেটাই অবশ্য স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ আমাদের অনুরোধ করেছেন ইরানের উপর আক্রমণ স্থগিত রাখতে। যত ক্ষণ না ইরানের নেতা এবং প্রতিনিধিরা একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব দিতে পারেন, তত ক্ষণ পর্যন্ত আমরা আক্রমণ স্থগিত রাখছি।’’ ট্রাম্পের ওই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ়ে ‘আগ্রাসন’ চালাল ইরান।

Advertisement
আরও পড়ুন