(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
চলতি সপ্তাহের শেষেই ইরানে হানা দিতে ‘প্রস্তুত’ মার্কিন সেনা! এমনই দাবি করেছে আমেরিকার দুই সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং সিবিএস। তবে তাদের প্রতিবেদনে এ-ও বলা হয়েছে যে, ইরানের সঙ্গে আমেরিকা সরাসরি সামরিক সংঘাতে যাবে কি না, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অন্য দিকে, সম্ভাব্য মার্কিন হানার কথা মাথায় রেখে দেশের পরমাণুকেন্দ্রগুলিকে সুরক্ষিত রাখছে ইরানও। মার্কিন সংস্থা ‘ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিয়োরিটি’ উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে দাবি করেছে, গুরুত্বপূর্ণ পরমাণুকেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা বন্দোবস্ত আঁটোসাঁটো করছে তেহরান। বাঙ্কার দিয়ে ঘিরে ফেলা হচ্ছে সেগুলিকে। মার্কিন সংস্থাটির তরফে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পারচিন সেনাঘাঁটি সংলগ্ন নিউ তালেঘান ২ পরমাণুকেন্দ্রটিকে দ্রুততার সঙ্গে মাটির ভিতরে ঢুকিয়ে ফেলা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের উপগ্রহচিত্র দেখিয়ে মার্কিন সংস্থাটির দাবি, ইরানের আরও দুই পরমাণুকেন্দ্র নাতান্জ় এবং ইশফাহানে ঢোকার সুড়ঙ্গপথকে পাথর এবং কংক্রিট দিয়ে বুজিয়ে ফেলা হচ্ছে।
সিএনএন পেন্টাগন (আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতরের সদর দফতর যেখানে)-এর একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে ইরানে হানা দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন সেনা প্রস্তুত থাকলেও এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি ট্রাম্প। একটি সূত্রের দাবি, ট্রাম্প এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অনেকটা সময় ব্যয় করছেন।
গত কয়েক দিন ধরেই পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক কার্যকলাপ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওই অঞ্চলে ৫০-এর বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর তরফে দাবি করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের কাছাকাছি আমেরিকার যুদ্ধবিমানের আনাগোনা কয়েক গুণ বেড়েছে।
আমেরিকার এই শক্তিপ্রদর্শনের মাঝেই ইরান পাল্টা শক্তিপ্রদর্শন করেছে। হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা। ঘটনাচক্রে, হরমুজ প্রণালীর অদূরেই মোতায়েন রয়েছে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-সহ একাধিক রণতরী। যদিও ইরানের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপণ নিছক পরীক্ষামূলক। তবে তেহরানের এই দাবি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অনেকের মনেই। তাঁদের দাবি, তেহরানের এই পদক্ষেপ ‘প্ররোচনামূলক’ও হতে পারে।
দু’দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসেছিল আমেরিকা। যদিও ওই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বৈঠকের পর আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভি ভান্স জানান, তাঁদের মূল দাবিগুলি মানতে ব্যর্থ ইরান। অর্থাৎ, তেহরান এখনই আমেরিকার শর্তে রাজি নয়। তবে ওয়াশিংটনের তরফে জানানো হয়েছে, তারা তেহরানকে আরও দু’সপ্তাহ সময় দিতে রাজি। উল্টো দিকে, ইরানের দাবি, আমেরিকার সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে ভবিষ্যতের আলোচনার দিশানির্দেশ সংক্রান্ত একটি সাধারণ সমঝোতা হয়েছে। তবে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এ-ও জানান, শীঘ্রই দু’দেশের মধ্যে পারমাণু চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।
এর আগে গত বছর জুন মাসে ইরানের নাতান্জ়, ফোরডো এবং ইশফাহান পরমাণুকেন্দ্রে আকাশপথে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। ইরানে হামলার পর ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘‘ফোরডো শেষ!’’ ফোরডো হল ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পরমাণুকেন্দ্র। ইরানের তরফে অবশ্য দাবি করা হয়, জনগণ নিরাপদে রয়েছে। পরমাণুকেন্দ্রগুলি থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হচ্ছে না।