ইরানের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। ছবি: রয়টার্স।
আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় দক্ষিণ ইরানের মিনাবের একটি স্কুলে অন্ততপক্ষে ৮৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। মৃতদের মধ্যে বেশির ভাগও স্কুলের ছাত্রী। তবে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার সকাল থেকে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক শহরে হামলা চালানো হয়েছে। এই প্রথম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করল ইরান। তবে দেশের আর কোথায় কত কী ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু জানায়নি তারা।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মিনাবে রিভোলোউশনারি গার্ড-এর একটি ঘাঁটি রয়েছে। সেই ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইজ়রায়েল-আমেরিকা। সেই হামলাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মিনাবের একটি স্কুল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই সময় স্কুল চলছিল। তখনই একটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে আঘাত করে। গুঁড়িয়ে যায় স্কুলের একাংশ। আর এই হামলায় ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার সকাল থেকেই তেহরান-সহ ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে একযোগে হামলা শুরু করে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। হামলার পর পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেন, এ বার আপনাদের নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের সময় এসে গিয়েছে। ক্ষমতা বদলের জন্য প্রস্তুত হোন। অন্য দিকে, ইজ়রায়েল প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘‘এ বার শাসক বদলানোর সময় এসে গিয়েছে। নিজেদের ভাগ্য ঠিক করতে আপনারা (ইরানবাসী) সাহসী পদক্ষেপ করুন।’’
তবে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরানও। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বাহিনী তেহরানে হামলার পরই গোটা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সামরিক উত্তেজনা। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আমেরিকার সেনা ছাউনি রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, সেই সেনাঘাঁটিগুলিকেই লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান। একই সঙ্গে আমেরিকার অন্তত ছয় বন্ধু দেশে হামলা শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ইজ়রায়েলের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত, কাতার, বাহরিন, ইরাক, সৌদি আরব এবং জর্ডনে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শনিবার দুপুরে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গিয়েছে কাতারের রাজধানী দোহাতেও।