US Iran Negotiations

সোমবার আমেরিকা-ইরান ফের বৈঠকে বসতে পারে, সমঝোতা কি হবে? ইসলামাবাদে গিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টায় আরও দুই দেশ

সপ্তাহান্তেই ইরান এবং আমেরিকার প্রতিনিধিরা পাকিস্তানে পৌঁছোতে পারেন। সোমবার ইসলামাবাদে ফের তাঁরা আলোচনায় বসবেন। মধ্যস্থতার চেষ্টায় শামিল হয়েছে আরও দুই দেশ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৭
(বাঁ দিক থেকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই।

(বাঁ দিক থেকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আমেরিকা এবং ইরানের প্রতিনিধিরা আগামী সোমবার ফের আলোচনায় বসতে পারেন। ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি-বৈঠকের আয়োজন করছে পাকিস্তান। ইরানের সূত্র উল্লেখ করে এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। তবে এখনও আমেরিকার তরফে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় নিয়ে কোনও ঘোষণা আসেনি। সূত্রের খবর, শুধু পাকিস্তান নয়, একাধিক দেশ আমেরিকা ও ইরানের সংঘর্ষে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানের সঙ্গেও তারা যোগাযোগ রাখছে।

Advertisement

সিএনএন জানিয়েছে, সপ্তাহান্তেই ইরান এবং আমেরিকার প্রতিনিধিরা পাকিস্তানে পৌঁছোতে পারেন। সোমবার ইসলামাবাদে ফের তাঁরা আলোচনায় বসবেন। যে সমস্ত বিষয় নিয়ে প্রথম দফার আলোচনায় মতানৈক্য ছিল, যেগুলির সমাধান হয়নি, সেগুলি নিয়ে ফের আলোচনা হবে। তবে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশাবাদী, ইরানের সঙ্গে শীঘ্রই সমঝোতার চুক্তি হবে। অর্থাৎ, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পুরোপুরি থামতে আপাতত আর দেরি নেই। ট্রাম্প দু’সপ্তাহের যে সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, তার মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করার প্রয়োজন পড়বে না বলেই জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আল জাজ়িরার রিপোর্ট অনুযায়ী, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল ঠানি এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এর্ডোগান পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। আমেরিকা-ইরানের বিবাদে মধ্যস্থতা চায় এই দুই দেশও। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের সঙ্গে তাঁরা দেখা করেন এবং সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা করেন। মধ্যস্থতাকারী হিসাবে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান যা ভূমিকা নিয়েছে, তার প্রশংসা করেছে কাতার ও তুরস্ক। পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছে। অন্য দিকে, দ্বিতীয় দফায় আমেরিকা-ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে গত বুধবার তেহরানে যান পাক সেনাপ্রধান তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার তাঁর দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। কয়েকটি সূত্রের দাবি, আমেরিকার বিশেষ প্রস্তাব নিয়ে ইরানে গিয়েছিলেন মুনির।

সমঝোতা নিয়ে ট্রাম্প আশাবাদী হলেও ইরান তেমন কিছু এখনও জানায়নি। সে দেশের এক সিনিয়র আধিকারিক বরং ট্রাম্পের দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তেহরান কোনও বিষয়ে আমেরিকাকে ছাড় দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ শনিবার সকালেই অভিযোগ করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প একের পর এক ‘ভুয়ো দাবি’ করে চলেছেন। আমেরিকা হরমুজ় প্রণালী থেকে অবরোধ না তুললে ওই জলপথ ইরান ফের বন্ধ করে দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন কালিবাফ। এই দোলাচলের পরিস্থিতিতে সমঝোতা আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই।

শুক্রবার হরমুজ় প্রণালী সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে ইরান। তবে তার পর থেকে এখনও পর্যন্ত খুব বেশি জাহাজ ওই জলপথ পেরোতে পারেনি। অনেক জাহাজ হরমুজ়ের মুখে এসেও ফিরে গিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, ইজ়রায়েল এবং লেবাননের মধ্যে যত দিন সংঘর্ষবিরতি চলবে, তত দিন হরমুজ় প্রণালী খোলা থাকবে। প্রাথমিক ভাবে এই দুই দেশ ১০ দিনের সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন