ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের প্রশাসন হরমুজ় প্রণালী ফের বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। —ফাইল চিত্র।
শুক্রবারই হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল ইরান। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠল। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ জানিয়ে দিলেন, হরমুজ় তাঁরা ফের বন্ধ করে দিতে পারেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি শর্ত শুনেই ক্ষুব্ধ হয়েছে তেহরান। কালিবাফের দাবি, সমঝোতার আলোচনা নিয়ে ট্রাম্প একাধিক ‘ভুয়ো তথ্য’ দিয়ে চলেছেন। তাতেও ক্ষোভ বাড়ছে ইরানে।
ট্রাম্প সম্প্রতি ইজ়রায়েল এবং লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করেছেন। জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষ শীঘ্রই তিনি পুরোপুরি থামিয়ে দিতে পারবেন। যুদ্ধ থামানোর তালিকায় সেটি হবে তাঁর দশম সাফল্য। লেবানন-ইজ়রায়েল সংঘর্ষবিরতির পর শুক্রবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়ে দেন, হরমুজ় প্রণালী সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে তার মেয়াদ অবশ্য সংঘর্ষবিরতি পর্যন্তই। আরাঘচি জানান, লেবাননে আর যে ক’দিন যুদ্ধবিরতি চলবে, সেই দিনগুলিতে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে সব বাণিজ্যিক জাহাজ। ইরানের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। বলেছিলেন, ‘‘এটা পৃথিবীর জন্য একটা দারুণ দিন।’’
হরমুজ় প্রণালী অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ট্রাম্প। বলা হয়েছিল, ইরানের বন্দর থেকে আসা বা সে দিকে যাওয়া সমস্ত জাহাজকে বাধা দেবে মার্কিন নৌ সেনা। ট্রাম্প শুক্রবার জানান, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার লেনদেন ১০০ শতাংশ সম্পূর্ণ না-হওয়া পর্যন্ত সেই অবরোধ চলবে। ট্রাম্পের এই শর্তেই ক্ষুব্ধ ইরান। কালিবাফ সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘অবরোধ চললে হরমুজ় প্রণালীও খোলা হবে না।’’ শান্তির আলোচনা নিয়ে ট্রাম্প একের পর এক ভুয়ো দাবি করে চলেছেন বলেও অভিযোগ করেন কালিবাফ। অন্য দিকে, ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়া হয়েছে বটে, কিন্তু সেখান দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলিকে তাদের সঙ্গে আলোচনা এবং সহযোগিতা করতে হবে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগে এমন কোনও শর্ত মানতে হত না কোনও দেশকে। সেই সঙ্গে ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে উল্লেখ করে দাবি করা হচ্ছে, ‘শত্রু দেশের’ রণতরী বা অন্য কোনও জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। তাদের জন্য জলপথ বন্ধই রাখা হয়েছে। আরাঘচির শুক্রবারের ঘোষণায় তেমন কোনও উল্লেখ ছিল না। ফলে হরমুজ় নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। অনেক জাহাজই এই জলপথ পেরোতে এখনও দ্বিধাগ্রস্ত।