খাতড়া বাজারে সাফাই না হওয়ায় আবর্জনা নেমে এসেছে রাস্তায়। নিজস্ব চিত্র।
পুরসভা নয়। কিন্তু মহকুমা সদর হওয়ায় জনসংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলেছে খাতড়ায়। তাই চাহিদা মতো পরিষেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, বামফ্রন্ট সরকার ও পরে তৃণমূল সরকার, কেউই খাতড়াকে পুরসভার স্বীকৃতি দিতে পারেনি। এখন ভোটের প্রচারে এসে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ফের পুরসভা নামের প্রতিশ্রুতির বেড়াল ঝোলা থেকেবার করছেন।
অবশ্য তৃণমূলের দাবি, পুরসভা গঠনের আগে প্রক্রিয়াগত কিছু কাজ থাকে। সে সব চলছে। নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে এখানে উন্নয়নমূলক নানা কাজ হয়েছে। পাল্টা সিপিএম ও বিজেপির অভিযোগ, এখানে কিছুই উন্নয়ন হয়নি।
খাতড়ায় রয়েছে মহকুমা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর, আদালত থেকে হাসপাতাল। বেশ কিছু বেসরকারি অফিসও রয়েছে। বাজারও বেশ বড়। ছোট-বড় প্রায় বারশো দোকান রয়েছে। কমবেশি দশ হাজার পরিবার বাস করেন এখানে। তাঁদের অভিযোগ, পথ থেকে পথবাতি, পানীয় জল থেকে নিকাশি, আবর্জনা সাফাই থেকে নানা রকম পরিষেবায় ঘাটতি রয়েছে।
বাসিন্দাদের দাবি, কিছু গ্রামেও বাড়ি বাড়ি নলবাহিত পানীয় জল পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু খাতড়া বাজার এলাকায় এখনও তা হয়নি। বাজার এলাকায় অল্প কয়েকটি পথবাতি রয়েছে। তাতে টিমটিম করে আলো জ্বলে। দোকানপাট বন্ধ হলে বাজারের পথ অন্ধকারে ঢেকে যায়। আবর্জনা, নর্দমা নিয়মিত সাফাই করা হয় না। বৃষ্টি হলেই নোংরা জল রাস্তায় গড়ায়, কারও কারও বাড়িতেও ঢুকে যায়। বিভিন্ন জায়গার নর্দমা আঢাকা থাকায় গরু, কুকুর পড়ে যায়।
খাতড়া ১ পঞ্চায়েতের বেশির ভাগ অংশ ও খাতড়া ২ নম্বর পঞ্চায়েতের কিছুটা নিয়ে খাতড়া মহকুমা সদর। পঞ্চায়েতের সীমিত সামর্থে ওই এলাকায় নাগরিকদের পরিষেবা দেওয়া আর সম্ভব নয় বুঝতে পেরে বাম আমলে খাতড়া পুরসভা তৈরির প্রস্তাব ওঠে। প্রবীণদের দাবি, পুরসভার সীমানা নির্ধারণ থেকে লোকসংখ্যার সমীক্ষাও হয়।
সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য তথা স্থানীয় বাসিন্দা অজিত পতির দাবি, ‘‘বিধানসভায় খাতড়া পুরসভার প্রস্তাব পাশ হয়েছিল। ২০১০-এ রাজ্য মন্ত্রিসভাতেও তা পাশ হয়। কিন্তু রাজ্যের ক্ষমতা আমরা হারানোর পরে আর কাজ এগোয়নি। আমরা সরকারে থাকলে এত দিনে খাতড়া পুরসভা হয়ে যেত।’’
যদিও তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে রয়েছে। গত দেড় দশকে এখানে বহু রাস্তাঘাট, বাসস্ট্যান্ড, আইটিআই কলেজ, ব্লাডব্যাঙ্ক, দমকল কেন্দ্র, নর্দমা তৈরি হয়েছে। পথে হাইমাস্ট আলো বসেছে। স্বাস্থ্য পরিষেবারও উন্নতি হয়েছে। যদিও বাসিন্দাদের একাংশ তাতে সন্তুষ্ট নয়। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সরবও হয়েছেন নাগরিক সমাজের অনেকে।
এই অনুন্নয়নের ক্ষোভকে প্রচারে হাতিয়ার করছেন বিরোধীরা। রানিবাঁধ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, ‘‘এত দিন এলাকাবাসীকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৃণমূল ঠকিয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলেই বাসিন্দাদের দাবিপূরণ হবে।’’ অন্য দিকে, সিপিএম প্রার্থী দেবলীনা হেমব্রম দাবি করেন, ‘‘জেলা থেকে দু’জন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। তাও কোনও উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। বামফ্রন্ট ক্ষমতায় এলেই পুরসভা তৈরি করা-সহ এলাকার সার্বিক উন্নয়ন হবে।’’
তবে রানিবাঁধ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তনুশ্রী হাঁসদার আশ্বাস, ‘‘আমাদের সরকারই খাতড়াকে পুরসভা স্বীকৃতি দেবে। মহকুমা হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন-সহ বাদবাকি কাজও করবে।’’