প্রতীকী ছবি।
মহারাষ্ট্রের নাসিকের পর এ বার মুম্বই। সমস্যামুক্ত করার নামে মহিলাদের ডেকে এনে যৌনহেনস্থা করার অভিযোগ উঠল জিম প্রশিক্ষক তথা স্বঘোষিত ‘বাবা’র বিরুদ্ধে। মুম্বইয়ের মালাডের ঘটনা। ৬০ জন মহিলাকে যৌনহেনস্থার অভিযোগ উঠেছে ওই জিম প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে। ওই ৬০ মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে ‘বাবা’কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মহিলাদের দাবি, বিভিন্ন রীতিনীতি আচার-অনুষ্ঠান পালনের জন্য যখন তখন ডাকতেন ‘বাবা’। কারও কারও অভিযোগ, মধ্যরাতেও তাঁদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন। এতটাই বিশ্বাস অর্জন করে ফেলেছিলেন যে, কেউ ঘুণাক্ষরেও আঁচ করতে পারেননি, সমস্যামুক্ত করার নামে, তাঁদের সঙ্গে অশ্লীল কাজ করবেন ‘বাবা’। অভিযোগকারীদের দাবি, এমন ভাবে ফাঁদ পেতেছিলেন যে, কেউ বিশ্বাসই করতে পারবেন না যে, ‘বাবা’ আসলে নিজের লালসা মেটাতে তন্ত্রমন্ত্রের ভান করছিলেন। শুধু যৌনহেনস্থাই নয়, মহিলাদের কাছ থেকে বিভিন্ন রীতিনীতির নামে মোটা টাকা দাবি করতেন। এমনকি তাঁদের গয়নাও লুট করে নিতেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর ‘অলৌকিক’ ক্ষমতা রয়েছে বলে সকলের বিশ্বাস অর্জন করতেন। যে কোনও ধরনের সমস্যা, কারও সন্তান হচ্ছে না, কারও স্বামীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না, বিশেষ করে এই ধরনের মহিলাদেরই নিজের লালসার শিকার বানাতেন। শুধু মহিলা নয়, তরুণী এবং যুবতীরাও তাঁর যৌনহেনস্থার শিকার। পুজোর নাম করে মহিলা এবং তরুণীদের মাঝরাতে নিজের চেম্বারে ডেকে নিয়ে আসতেন। সমস্যামুক্ত করার নামে কারও কাছ থেকে ‘ফি’ হিসাবে মোটা টাকা, দামি মদ, সিগারেট, কখনও মুরগির মাংস, খাসির মাংস দাবি করতেন। অভিযোগকারীদের দাবি, কেউ যদি ঘুণাক্ষরেও তাঁর ভন্ডামি ধরে ফেলতেন, তাঁকে শাসাতেন। বাড়িতে গুন্ডা পাঠানোর ভয় দেখাতেন। এক অভিযোগকারীর দাবি, সমস্যামুক্ত করার নামে তাঁর মুখে জ্বলন্ত সিগারেট ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন ‘বাবা’। এক অভিযোগকারী সাহস করে এক আইনজীবীর দ্বারস্থ হন। সেই আইনজীবীর মাধ্যমে পুরো ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ‘বাবা’ দাবি করতেন, তাঁর বিশাল রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। বড় বড় নেতাদের সঙ্গে ওঠাবসা।
প্রসঙ্গত, গত মাসেই নাসিকে এক অবসরপ্রাপ্ত মার্চেন্ট নেভি অফিসার তথা স্বঘোষিত ‘বাবা’র বিরুদ্ধে ৫৮ জন মহিলাকে ধর্ষণ এবং যৌনহেনস্থার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনা পুরো মহারাষ্ট্রে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। এমনকি রাজনৈতিক মহলেও তা বিশাল সাড়া ফেলে দেয়। সেই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। তার মধ্যেই মুম্বইয়ে আরও এক স্বঘোষিত ‘বাবা’র বিরুদ্ধে যৌনহনস্থার অভিযোগ প্রকাশ্যে এল। পুলিশ জানিয়েছে, চার বছর আগে অভিযুক্ত ‘বাবা’ জিম প্রশিক্ষকের কাজ করতেন। কিন্তু অল্প সময়ে বেশি টাকা উপার্জনের লালসায় নিজেকে ‘বাবা’ বলে প্রচার করা শুরু করেন। জিম প্রশিক্ষক হওয়ার সুবাদে তাঁর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রচুর মহিলা এবং তরুণী আসতেন। তাঁদের এমন ভাবে মগজধোলাই করেছিলেন যে, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের আস্থা অর্জন করেন। আর সেই সুযোগ তিনি কাজে লাগান।