বাড়িঘর একই ভাবে সাজানো থাকলে অনেকেরই একঘেয়ে
লাগে। বৈচিত্র আনতে অন্দরসজ্জায় নানা বদল আনেন বহু মানুষ। তা যদি বাস্তুমতে করা
যায় তবে বাড়ি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠার পাশাপাশি জীবনে আসে শুভ পরিবর্তন। কেননা, বাস্তুশাস্ত্র
অনুসারে, চার দিক ও চার কোণের উপর মানুষের সমৃদ্ধি ও কল্যাণের অনেকটাই নির্ভর করে। তাই ঘরদোর নতুন ভাবে সাজানোর আগে জেনে নিন কোন দিকে কার অবস্থান রয়েছে—
-
পূর্ব দিক: শাস্ত্রে বলে, দেবরাজ ইন্দ্র পূর্ব দিকের রক্ষক। এই দিক থেকেই সূর্যদেব উদিত হন বলে একে
সূর্যের দিকও বলে মানেন অনেকে। বাড়ি তৈরির সময় এই দিকটি খোলামেলা রাখার পরামর্শ
দিয়ে থাকেন বাস্তুবিদেরা।
-
পশ্চিম দিক: পুরাণ অনুসারে, পশ্চিম দিকের অধিষ্ঠান করেন বৃষ্টির দেবতা বরুণ। এই
দিকে শনি গ্রহের প্রাধান্য রয়েছে। বসতবাড়ির পশ্চিম দিক খুব একটা খোলামেলা রাখা
বাঞ্ছনীয় নয় বলে জানাচ্ছে বাস্তুশাস্ত্র।
-
উত্তর দিক: বাস্তুমতে, এই
দিকে অবস্থান করেন কুবের। তাই এটিকে অর্থ ও পেশাগত উন্নতির দিক হিসাবে চিহ্নিত করা
হয়। বুধ হল উত্তর দিকের গ্রহ।
-
দক্ষিণ দিক: কথায়
বলে, ‘যমের দক্ষিণদুয়ার’। অর্থাৎ, এই দিকেই রয়েছে শমনসদন। তাই, দক্ষিণ দিকে বাড়ির
মূল দরজা রাখার ক্ষেত্রে নিষেধ রয়েছে শাস্ত্রে। এই দিকের প্রতিনিধি গ্রহ হল মঙ্গল।
-
ঈশান
কোণ: বাস্তুমতে, উত্তর-পূর্ব দিকের অধিপতি হলেন দেবাদিদেব মহাদেব। এই স্থানে দেবগুরু বৃহস্পতি
অবস্থান করে থাকেন। ছাত্র-ছাত্রীরা এই দিকে মুখ করে পড়তে বসলে পরীক্ষার ফল ভাল হয়
বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
-
অগ্নিকোণ: দক্ষিণ-পূর্ব দিকটিতে অগ্নিদেব অবস্থান করেন
বলে মনে করা হয় বাস্তুশাস্ত্রে। এর প্রতিনিধি গ্রহ শুক্র। এই কোণে রান্নাঘর থাকলে
তা শুভফলদায়ী হয় জানাচ্ছেন বাস্তুবিদেরা।
-
নৈর্ঋত কোণ:
পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে আধিপত্য রয়েছে নির্ঋতি নামের এক রাক্ষসের। এর প্রতিনিধি গ্রহ রাহু। বাস্তুমতে,
এই কোণে পূর্বপুরুষদের (পিতৃপুরুষ) ছবি রেখে পুজো করলে সুখ-সমৃদ্ধি লাভ হয়।
-
বায়ুকোণ: জ্যোতিষমতে, উত্তর-পশ্চিম দিকের
অধিপতি হলেন পবনদেব। এবং প্রতিনিধি গ্রহ চন্দ্র। বাতাসের গতির মতোই এই দিকটিকে
খুবই অস্থির দিক বলে ধরা হয়ে থাকে। এই দিকের ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক বাস্তুনিয়ম
না মানলে অমঙ্গলের আশঙ্কা থেকে যায়।