Israel-Hamas Conflict

অপুষ্টিতে মৃত্যু অন্তত ৬৬ শিশুর! ইজ়রায়েলি হানার মধ্যে গাজ়া জুড়ে খাবারের জন্য হাহাকার, উদ্বেগপ্রকাশ ইউনিসেফের

শনিবার গাজ়ার সরকারি জনসংযোগ দফতর থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে অপুষ্টিতে শিশুমৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে ইজ়রায়েল এবং তাকে সমর্থিত দেশগুলির তীব্র নিন্দা করা হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৫ ১২:৫৩
Several children dead of malnutrition in Gaza

গাজ়ায় অপুষ্টিতে বাড়ছে শিশুমৃত্যু। —ফাইল চিত্র।

গাজ়া জুড়ে খাবারের জন্য হাহাকার বেড়েই চলেছে। দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন গাজ়াবাসী। অভিযোগ, ইজ়রায়েলের ‘অবরোধ’ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। খাবার নেই, ওযুধ নেই, প্রয়োজনীয় পণ্যের অভাব। সেই কারণেই অপুষ্টির শিকার হচ্ছে গাজ়ার শিশুরা। গাজ়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, শুধু অপুষ্টিতেই অন্তত ৬৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে! অপুষ্টির সঙ্গে ইজ়রায়েলি সেনার হামলাতেও তটস্থ গাজ়াবাসী।

Advertisement

শনিবার গাজ়ার সরকারি জনসংযোগ দফতরের থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে অপুষ্টিতে শিশুমৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে ইজ়রায়েল এবং তাদের সমর্থিত দেশগুলির তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রবেশে বাধা দেওয়াকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলেও বর্ণনা করেছেন গাজ়া কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, গাজ়ার সাধারণ মানুষকে শেষ করতে ইজ়রায়েল ইচ্ছাকৃত ভাবে অনাহারকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে!

অনাহার, রোগ এবং খেতে না পেয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর শিকার হওয়া শিশুদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের ‘নীরবতা’কেও নিন্দা করেছে গাজ়া প্রশাসন। তাদের দাবি, গাজ়ায় শৈশবকে শেষ করতে চায় ইজ়রায়েল। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এই বিপর্যয়ের’ জন্য শুধু ইজ়রায়েল নয়, দায়ী তার বন্ধু আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশগুলিও। এই বিষয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের হস্তক্ষেপ এবং অবিলম্বে গাজ়ায় ইজ়রায়েলি ‘অবরোধ’ তুলে দিয়ে প্রবেশের পথ প্রশস্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ দিন দুয়েক আগেই গাজ়ায় অপুষ্টি এবং দুর্ভিক্ষের বিষয় নিয়ে সতর্ক করেছিল। তারা জানায়, গাজ়ায় অপুষ্টির শিকার হওয়া শিশুর সংখ্যা ‘উদ্বেগজনক হারে’ বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে ইউনিসেফ। সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র মে মাসেই কমপক্ষে ৫,১১৯ জন শিশু অপুষ্টির শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ওই শিশুদের বয়স ছ’মাস থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে! এপ্রিল মাসের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি শিশু মে মাসে গাজ়ায় অপুষ্টির শিকার হয়েছে। মার্চ মাস থেকে গাজ়া অবরোধ করে রেখেছে ইজ়রায়েলি সেনা। ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না ত্রাণ বা বাণিজ্যিক পণ্য সরবরাহকারী ট্রাককে। তার জেরে তীব্র খাদ্যসঙ্কটের মুখোমুখি গাজ়াবাসী।

বিশ্বের বহু দেশের আপত্তির কারণে অবরোধ কিছুটা শিথিল করেছে ইজ়রায়েল। কিছু পণ্যবাহী ট্রাক ঢোকার অনুমতি দিয়েছে তারা। তবে তাতেও মিটছে না খাদ্যসঙ্কট। বিভিন্ন মহলের দাবি, গাজ়ায় যে ত্রাণ পৌঁছোচ্ছে, তা অপর্যাপ্ত! পাশাপাশি, অনাহারে আক্রান্ত গাজ়ায় থামেনি ইজ়রায়েলি হানা। অভিযোগ, ত্রাণশিবিরের নামে ‘মৃত্যুফাঁদ’ পেতে রেখেছে ইজ়রায়েল। গাজ়ায় মূলত আমেরিকার অর্থে ত্রাণশিবির চালায় ‘গাজ়া হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন’ বা জিএইচএফ। সেই শিবিরগুলিও দিনের পর দিন বন্ধ থাকে। সংস্কারের কাজ চলছে বলে দাবি করে তা বন্ধ করে রাখা হয়। ইজ়রায়েলি বাহিনী হুঁশিয়ারি দেয়, ত্রাণশিবিরের দিকে এক পা এগোলে ফল ভাল হবে না। ফলে প্রাণভয়ে সে পথে হাঁটেনও না গাজ়ার বহু মানুষ। আর যাঁরা যান, তাঁদেরও হামলার শিকার হতে হয়।

Advertisement
আরও পড়ুন