শফিকুর রহমান। —ফাইল চিত্র।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন এখনও কেন ডাকা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকারপক্ষের সঙ্গে বিতর্কে জড়ালেন বিরোধী দলনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তাঁর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, সংবিধানে এ ধরনের পরিষদের অস্তিত্ব না থাকায় প্রধানমন্ত্রীও রাষ্ট্রপতিকে এ বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন না এবং রাষ্ট্রপতিও অধিবেশন ডাকতেপারেন না।
রবিবার সংসদের অধিবেশনে শফিকুর বলেন, ’২৫-এর ১৩ নভেম্বর জারি হওয়া রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার কথা থাকলেও তা হয়নি।
জবাবে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে সালাউদ্দিন বলেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু সংবিধান পরিবর্তনের মতো বিষয় অধ্যাদেশে আনা যায় না। তাঁর কথায়, ‘‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশটি ‘না অধ্যাদেশ, না আইন’। ফলে এর সাংবিধানিক অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন আছে।” তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন এবং ভাষণও দিয়েছেন। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংবিধানে নেই বলে প্রধানমন্ত্রীও রাষ্ট্রপতিকে এ নিয়ে অধিবেশন ডাকতে লিখিত পরামর্শ দিতে পারেন না। রাষ্ট্রপতিও অধিবেশন ডাকতে পারেন না বলে তিনিও তা করেননি।
সালাউদ্দিন বলেন, “গণভোটের রায়কে সরকার অস্বীকার করছে না। তবে সেই রায় বাস্তবায়ন করতে হলে আগে সংবিধানে সংশোধন আনতে হবে। তার পরে পরবর্তী ধাপে পরিষদের প্রশ্ন আসতে পারে।” তাঁর কথায়, “জনরায়কে সম্মান দিতে হবে, কিন্তু সেটা সাংবিধানিক ভাবে দিতে হবে, আইনগতভাবে দিতে হবে। এখানে আবেগের কোনও জায়গা নেই। রাষ্ট্র আবেগ দিয়ে চলে না, রাষ্ট্র চলে সংবিধান দিয়ে, আইন দিয়ে, কানুন দিয়ে।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ যে সরকার পুরোপুরি বন্ধ করছে না, সেই ইঙ্গিতও দেন সালাউদ্দিন। কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনা করে কখন সংবিধান সংশোধনের জন্য বিল আনা যেতে পারে, তা নির্ধারণের প্রস্তাব দেন তিনি। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বিরোধী দলনেতাকে নোটিস দিতে বলেন। স্পিকার জানান, নোটিস পাওয়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।