Traffic in Strait of Hormuz

হরমুজ় ধরে জাহাজ চলাচল বাড়ল, তবে আগের মতো নয়! প্রণালীর উপর নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করার বার্তা ইরানের

সিএনএন ‘মেরিনট্রাফিক ডেটা’-র তথ্য বিশ্লেষণ করে সোমবার জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত) হরমুজ় ধরে আসা-যাওয়া করেছে প্রায় দুই ডজন জাহাজ। যুদ্ধের আগে এই জলপথ ধরে যাতায়াত করত অন্তত ১১০টি জাহাজ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ১১:৪৫
আমেরিকা-ইরান শান্তি সমঝোতার পর জাহাজের আনাগোনা বাড়ছে হরমুজ় প্রণালীতে।

আমেরিকা-ইরান শান্তি সমঝোতার পর জাহাজের আনাগোনা বাড়ছে হরমুজ় প্রণালীতে। ছবি: সংগৃহীত।

আমেরিকা-ইরান শান্তি সমঝোতার সুফল! হরমুজ় প্রণালী ধরে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বাড়ল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জাহাজ চলাচলের উপর নজর রাখা সংস্থা ‘মেরিনট্রাফিক ডেটা’-র তথ্য বিশ্লেষণ করে সোমবার জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত) হরমুজ় ধরে আসা-যাওয়া করেছে প্রায় দুই ডজন জাহাজ। কিছু জাহাজ পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ় পেরিয়ে বেরিয়েছে। কিছু জাহাজ হরমুজ় অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে ঢুকেছে।

Advertisement

সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে হরমুজ়ের একটি মানচিত্রও তুলে ধরেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েকটি জাহাজ ওমান এবং পারস্য উপসাগরের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী অতিক্রম করে ঢুকছে। কিছু জাহাজ একই পথ ধরে বেরিয়ে আসছে। এই আবহে হরমুজ়ের উপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। তেহরানের স্পষ্ট বার্তা, হরমুজ়ের পরিস্থিতি আর কখনওই যুদ্ধ পূর্ববর্তী অবস্থায় যাবে না।

ইরানিরাই যে হরমুজ় প্রণালীর দেখভাল করবেন, তা-ও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে সোমবার শান্তি-আলোচনার জন্য ইরানের প্রতিনিধিদলের প্রধান মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেন, “আমিই প্রথম ব্যক্তি, যে স্পষ্ট ভাষায় বলেছিল হরমুজ় প্রণালী কখনওই যুদ্ধ পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরবে না। সকলের সেটা জানা উচিত।” একই সঙ্গে তিনি এ-ও জানান যে, ইরান আমেরিকার উপর ভরসা করে না, ভবিষ্যতেও করবে না। তবে যে কোনও ধরনের ‘ভুল বোঝাবুঝি’ এড়াতে একটি ‘টেলিফোন হটলাইন’ খুলতে সম্মত হয়েছে ইরান। আমেরিকা বা অন্য কোনও দেশের জাহাজ এই জলপথ ধরে গেলে প্রয়োজনে ওই হটলাইনে যোগাযোগ করা যাবে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রতিনিধি।

যদিও আমেরিকার তরফে প্রকাশিত সমঝোতাপত্রের পাঁচ নম্বর শর্তে বলা হয়েছিল যে, ইরান হরমুজ়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে উদ্যোগী হবে। জাহাজগুলির কাছ থেকে কোনও রকম শুল্ক আদায় করবে না তারা। একই সঙ্গে পঞ্চম দফার শর্তে বলা হয়েছে যে, আগামী দিনে কী ভাবে হরমুজ় প্রণালী ধরে জাহাজ চলাচল পরিচালিত হবে, তা ঠিক করতে ওমান এবং পশ্চিম এশিয়ার অন্য দেশগুলির সঙ্গে ‘বৃহত্তর’ বোঝাপড়া করবে ইরান। প্রসঙ্গত, হরমুজ় প্রণালীর এক প্রান্তে রয়েছে ইরান। অপর প্রান্তে রয়েছে ওমান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই জলপথ ধরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সারা বিশ্বে ব্যবহৃত জ্বালানির এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ় ধরেই যাতায়াত করত। যুদ্ধ পূর্ববর্তী পরিস্থিতিতে এই প্রণালী ধরে অন্তত ১১০টি জাহাজ যেত। ইরান এই প্রণালীতে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশ ছাড়া বাকি সমস্ত দেশের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। পাল্টা পদক্ষেপে ইরানের বন্দরগুলিতে তেলবাহী জাহাজ ঢোকা-বেরোনো বন্ধ করতে নৌ অবরোধ শুরু করে আমেরিকা। এর ফলে গোটা বিশ্বেই জ্বালানি সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তেল, গ্যাসের দাম বাড়তে থাকে।

Advertisement
আরও পড়ুন