ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজ়াদা। —ফাইল চিত্র।
ইজ়রায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজ়াদা। সূত্র মারফত এমনটাই জানাচ্ছে ‘রয়টার্স’। জানা যাচ্ছে, শনিবারের হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের রিভলিউশনারি গার্ডসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরেরও। তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সূত্র মারফত এই তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে দু’টি ইজ়রায়েলি সামরিক বাহিনীর সূত্র এবং অন্যটি পশ্চিম এশিয়ার তৃতীয় কোনও দেশের সূত্র। যদিও তেহরান থেকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
নাসিরজ়াদা নিজেও ইরানের প্রাক্তন সামরিক কর্তা। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বে আসার আগে তিনি সে দেশের সামরিক বাহিনীর ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ ছিলেন। অন্য দিকে পাকপৌর ২০২৫ সালে রিভলিউশনারি গার্ডের কমান্ডার হিসাবে দায়িত্বে এসেছিলেন।
গত কয়েক দিন ধরেই পশ্চিম এশিয়ায় এক উত্তেজনাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এক দিকে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। এবং অন্যদিকে ইরান। দু’পক্ষই একে অন্যকে হুঁশিয়ারি এবং পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল। এরই মধ্যে শনিবার ইরানে হামলা শুরু করে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। পাল্টা দেয় ইরানও। ইজ়রায়েল এবং পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় তেহরানও। গোটা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।
এরই মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় (ভারতীয় সময়ে) সূত্রের ভিত্তিতে রয়টার্স দাবি করে, ইজ়রায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক বাহিনীর এক কমান্ডার। বস্তুত, হামলা শুরুর পরেই ইজ়রায়েল দাবি করেছিল— তাদের মূল নিশানায় রয়েছেন ইরানের প্রথম সারির নেতারা। এর মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং সে দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানও রয়েছেন বলে দাবি করে ইজ়রায়েল।
ইজ়রায়েলের এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে থাকে— খামেনেই সুরক্ষিত রয়েছেন কি না। এরই মধ্যে ইরানের সংবাদমাধ্যম দাবি করে, খামেনেই সুরক্ষিত আছেন। হামলা শুরু হতেই তাঁকে গোপন এবং নিরাপদ ডেরায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বস্তুত, তেহরানে যেখানে হামলা হয়েছে, তার কাছেই রয়েছে খামেনেইয়ের দফতর। তবে হামলার সময়ে তিনি ওই দফতরে ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।