বাংলাদেশের নির্বাচনে জয়ী দল বিএনপি-র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। —ফাইল চিত্র।
বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জে সংখ্যালঘুদের দোকান ভাঙচুর, চাঁদা নিয়ে জুলুমবাজির অভিযোগে তিন নেতাকে শো কজ় করল বিএনপি। ভোটারদের ভয় দেখানো-সহ একাধিক অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে আরও দু’জনকে। ভোটে জেতার পর থেকে দলীয় শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে কড়া হয়েছে তারেক রহমানের দল। দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেই আঞ্চলিক পরিসরে এই ধরনের পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভাও শপথ নেবে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা তুলে দেবে নতুন সরকারের হাতে। প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেকই। ভোটের প্রচারপর্ব থেকেই তিনি বাংলাদেশে ‘স্বাভাবিক’ পরিস্থিতি ফেরানোর কথা বলে এসেছেন। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার উপরে জোর দিয়েছেন। শৃঙ্খলাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তাঁর দলের অন্দরেও।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, সিরাজগঞ্জে সংখ্যালঘুদের দোকানে হুমকি, চাঁদার জুলুমবাজি এবং ভাঙচুরের অভিযোগে বিএনপি-র তিন নেতাকে শো কজ় করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফিরোজ আহমেদ, মনা পাল এবং আরজু আহমেদ। প্রত্যেকেই জেলা সংগঠনে পরিচিত মুখ। জেলা বিএনপি-র সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বলেন, ‘‘দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে দল।’’
সিরাজগঞ্জের আরও দু’জনকে দলীয় পদ থেকে সাসপেন্ড করেছে বিএনপি। তাঁরা হলেন শিহাব মণ্ডল এবং মোস্তাফিজুর রহমান মণ্ডল। দু’জনেই স্থানীয় পরিমণ্ডলে প্রভাবশালী নেতা। অভিযোগ, তাঁরা ভোটের সময় ভোটারদের ভয় দেখিয়েছেন, অস্ত্রশস্ত্র হাতে রাস্তায় ঘুরে বেরিয়েছেন এবং মারধর করেছেন। দু’জনের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরেই পদক্ষেপ করেছে দল।
ভোট মিটতেই বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভোটপরবর্তী হিংসার খবর আসছে। রবিবার রাতে পিরোজপুরে দুই বিএনপি নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁরা খুলনার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এখনও দুষ্কৃতীদের কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
২০২৪ সালের ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভারতে চলে আসার পর থেকেই সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ধারাবাহিক অবনতি হয়েছে। বেড়েছে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা। তা নিয়ে ভারত সরকারও একাধিক বার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারেকের সামনে আইনশৃঙ্খলার পুনরুদ্ধারই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে বলে মত অনেকের।