এসআইআরের কাজে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। —ফাইল চিত্র।
কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’ বা রাজ্য সরকারের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নথি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যই হবে না, পশ্চিমবঙ্গের সিইও দফতরকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। এই দুই প্রকল্পের নথি এসআইআরের শুনানিতে গ্রহণ করা যাবে কি না, জানতে চেয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। তাঁর প্রশ্নের জবাবেই বিষয়টি স্পষ্ট করেছে কমিশন।
২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর এসআইআরের নোটিসে কমিশন বলেছিল, নথি হিসাবে সরকার অনুমোদিত বাড়ি বা জমির শংসাপত্র গ্রহণ করা যাবে। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অনেকে মনে করেছিলেন, কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়ার যে প্রকল্প চালু করেছে, তার নথি দেখালেও এসআইআরের কাজ হয়ে যাবে। অনেকেই শুনানিতে সেই নথি নিয়ে এসেছিলেন। বিভ্রান্তি মেটানোর জন্য কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা চান মনোজ। গত ২১ জানুয়ারি বিষয়টি জানতে চেয়ে তিনি নয়াদিল্লিতে কমিশনের সদর দফতরে চিঠি দেন। সোমবার তার জবাব এসেছে। কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, ওই দুই প্রকল্পের নথি এ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়।
সিইও-কে দেওয়া ব্যাখ্যায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথা উল্লেখ করেছে কমিশন। সুপ্রিম কোর্ট ৯ ফেব্রুয়ারির নির্দেশে বলেছে, এসআইআরের নোটিস যাঁরা পাচ্ছেন, তাঁরা শুধুমাত্র কমিশনের এসআইআর সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত নথির উপরেই ভরসা রাখতে পারবেন। কমিশনের ১৯ জানুয়ারির নির্দেশিকাতে উল্লিখিত নথিও গ্রহণযোগ্য হবে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের দেওয়া জমি বা বাড়ির শংসাপত্রের কথা উল্লেখ থাকলেও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা বাংলার বাড়ি প্রকল্পের আর্থিক সাহায্যের অনুমোদন তার মধ্যে পড়ে না। তাই এই নথি গ্রহণ করা যাবে না।
রাজ্যে এসআইআরের শুনানি শেষ হয়েছে। চলছে নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। যাঁরা শুনানিতে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের ওই দুই প্রকল্পের নথি জমা দিয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে অন্য নথি চাওয়া হতে পারে। চূড়ান্ত তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে প্রথম থেকেই কড়া কমিশন। জানানো হয়েছে, কোনও বিদেশি নাগরিকের নাম তালিকায় যদি থেকে যায়, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।