SIR in West Bengal

এসআইআর: রাজ্যের আরও সাত আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ! নবান্নে চিঠি পাঠিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন

রাজ্যের আরও সাত আধিকারিককে সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। এই সাত জনের মধ্যে তিন‌ জন রয়েছেন মুর্শিদাবাদ জেলার, দু'জন দক্ষিণ ২৪ পরগনার, একজন জলপাইগুড়ির এবং এক জন পশ্চিম মেদিনীপুরের আধিকারিক।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:১৫
রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী।

রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। —ফাইল চিত্র।

রাজ্যের আরও সাত আধিকারিককে সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। সাত জনই রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কাজে এইআরও হিসাবে নিযুক্ত। তাঁদের বিরুদ্ধে এসআইআর-এর কাজে অসদাচরণ, কর্তব্যে গাফিলতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে কমিশন। প্রত্যেককেই অবিলম্বে নিলম্বিত করার জন্য নবান্নে চিঠি পাঠিয়েছে তারা।

Advertisement

রাজ্যের চার আধিকারিককে আগেই সাসপেন্ড করে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু এফআইআর দায়ের না-হওয়ায় শুক্রবার দিল্লিতে নির্বাচন সদনে তলব করা হয়েছিল রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে। তার পরের দিনই জানা যায়, ওই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যকে সময় দিয়েছে কমিশন। এরই মধ্যে রবিবার রাজ্যের আরও সাত আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠাল কমিশন।

এই সাত জনের মধ্যে তিন‌ জন রয়েছেন মুর্শিদাবাদ জেলার, দু’জন দক্ষিণ ২৪ পরগনার, একজন জলপাইগুড়ির এবং এক জন পশ্চিম মেদিনীপুরের আধিকারিক। জানা যাচ্ছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্বের দুই এইআরও সত্যজিৎ দাস এবং জয়দীপ কুন্ডু, জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির এইআরও ডালিয়া রায়চৌধুরী, মুর্শিদাবাদের সমশেরগঞ্জের এইআরও শেফাউর রহমান, ফরাক্কার এইআরও নীতীশ‌ দাস, সুতির এইআরও শেখ মুর্শিদ আলমকে এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার এইআরও দেবাশিস বিশ্বাসকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

মুখ্যসচিবকে পাঠানো চিঠিতে কমিশন‌ জানিয়েছে, ওই সাত আধিকারিককে সাসপেন্ড করে তাঁদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পদক্ষেপ করতে হবে। এই নির্দেশ পাওয়ার পরে রাজ্য কী পদক্ষেপ করছে, তা-ও কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে।

বস্তুত এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে গত বছর থেকেই রাজ্য এবং কমিশনের সংঘাত চলে আসছে। রাজ্যের দুই জেলার চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে গত বছরই এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। পূর্ব মেদিনীপুর ময়না এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্বের ইআরও এবং এইআরও-দের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে তারা। ওই আধিকারিকেরা ‘ভুয়ো’ বা ‘ভূতুড়ে’ ভোটারদের নাম তালিকায় বেআইনি ভাবে তুলেছেন বলে অভিযোগ। চার আধিকারিক হলেন তথাগত মণ্ডল, দেবোত্তম দত্তচৌধুরী, বিপ্লব সরকার এবং সুদীপ্ত দাস। চার জনকেই নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। সুরজিৎ হালদার নামে ডেটা এন্ট্রির কাজে যুক্ত এক কর্মীর বিরুদ্ধেও এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন।

এ বিষয়ে প্রথমে গত বছর ৫ অগস্ট রাজ্যকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল কমিশন। পরে ৮ অগস্ট ফের একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই সময়ে নবান্ন জানায়, ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের ‘সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক’ (এইআরও) সুদীপ্ত এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ‘ডেটা এন্ট্রি অপারেটর’ সুরজিৎকে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাকিদের বিরুদ্ধে সেই মুহূর্তে কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না বলে কমিশনকে জানিয়ে দেয় নবান্ন।

নির্দেশ কার্যকর করা না-হওয়ায় গত ২ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট দুই জেলাশাসককে এফআইআর করার নির্দেশ দেয় কমিশন। সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। ইতিমধ্যে সিইও দফতর থেকে জেলাশাসকদের দু’বার ‘রিমাইন্ডার’ দেওয়া হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি)-এর কাছ থেকে আইনি পরামর্শ নেয় নবান্ন। চিঠি পাঠানো হয় সিইও দফতরেও। সেখানে জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ‘অপরাধ’ এফআইআর করার মতো যথেষ্ট নয়। কম গুরুত্বপূর্ণ অপরাধে এত বড় শাস্তি দেওয়া ঠিক নয়।


Advertisement
আরও পড়ুন