মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।
ইরান-যুদ্ধে প্রতিদিন কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে আমেরিকার! মার্কিন এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইরানে হামলার প্রথম ২৪ ঘণ্টায় আমেরিকার খরচ হয়েছে প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লক্ষ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬,৯০০ কোটি টাকা! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধ আরও এক মাস চলতে পারে। ফলে যুদ্ধের জন্য মার্কিন ভাঁড়ার থেকে খরচের পরিমাণ অনেকগুণ বাড়বে। ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার অন্দরেই এ বার প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন। যুদ্ধের খরচ, ঝুঁকি এবং কৌশল নিয়ে আইনপ্রণেতাদের একাংশ প্রশ্ন তুললেন মার্কিন ক্যাপিটলে। যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা স্থির হতে পারে বুধবার মার্কিন সেনেটে। ইরানের যুদ্ধ নিয়ে ভোটাভুটি হবে।
গত দু’দিন ধরেই মার্কিন ক্যাপিটলে ইরান-যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাপিটল। উত্তেজনার নেপথ্যে ছিল ইরান-যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের পরিবর্তনশীল যুক্তি! দাবি করা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা ছিল একটি প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ। কারণ আমেরিকার সমর্থন না-থাকলেও ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত ইজ়রায়েল। তখনই মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একাংশ প্রশ্ন তোলেন, এই যুদ্ধের পরিকল্পনা, খরচ, আমেরিকানদের উপর এর প্রভাব নিয়ে। আর তাতেই উত্তেজনা ছড়ায়।
মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছেন। তাঁর এই ক্ষমতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দানা বেঁধেছে বিতর্ক। তার পরেই কংগ্রেস ভোটাভুটির পথে হাঁটার পরিকল্পনা করে। বুধবার হাউস এবং সেনেটে এই ভোটাভুটি হওয়ার কথা। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো দাবি করেছেন, ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নেন, আমেরিকা প্রথমে আঘাত হানবে না। তবে মার্কিন প্রশাসনের এ-ও দাবি, ইজ়রায়েল হামলা চালালে পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আমেরিকার সেনাঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করতে পারে ইরান। এই আশঙ্কা থেকেই আমেরিকা আগাম হামলা চালিয়েছিল!
সেনেটের সদস্য অ্যাঙ্গাস কিংয়ের মতে, ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানে বোমা হামলা চালাতে চেয়েছিলেন, সেই কারণে আমেরিকাকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেন ট্রাম্প। এটা ‘বিরক্তিকর’ বলেও দাবি করেন অ্যাঙ্গাস। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্তা এলব্রিজ় কলবির দাবি, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস এবং তেহরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতেই হামলার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প বার বারই দাবি করেন, তিনি এবং তাঁর প্রশাসন এক নীতিতে বিশ্বাসী, তা হল ‘আমেরিকান ফার্স্ট’। অর্থাৎ, তিনি যা কিছু করছেন, তা আমেরিকা এবং আমেরিকানদের স্বার্থের কথা ভেবে। সেই বিষয়টি উত্থাপন করে সেনেটের একাধিক সদস্যের প্রশ্ন, এই যুদ্ধে জড়ানো কী ভাবে ট্রাম্পের ‘আমেরিকান ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে খাপ খায়।
‘সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি’র তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার কিছু যুদ্ধজাহাজ যেমন ইউএসএস জেরাল্ড বা ফোর্ডের পরিচালনা খরচ প্রতিদিন প্রায় ৬৫ লাখ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫৮ কোটি টাকা)। সূত্রের খবর, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং ইরানের অন্য কর্তাদের হত্যা করতে ওই সব রণতরী ব্যবহার করেছে আমেরিকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধ যদি ট্রাম্পের কথা মতো দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে আমেরিকার অন্তত ২১ হাজার কোটি মার্কিন ডলার খরচ হবে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৮.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা!