১৫ বছরের কমবয়সিদের সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে নতুন আইন পাশ হয়েছে তুরস্কে। — প্রতীকী চিত্র।
ছোটদের সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ হচ্ছে আরও এক দেশে। বুধবার বেশি রাতের দিকে তুরস্কের পার্লামেন্টে এই সংক্রান্ত আইন পাশ হয়েছে। সদ্য পাশ হওয়া আইন অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার এই দেশে ১৫ বছরের কমবয়সিদের সমাজমাধ্যম ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। যদিও এই আইন কবে থেকে কার্যকর হবে, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়।
গত বছরের শেষের দিকে অস্ট্রেলিয়া প্রথম দেশ হিসাবে ছোটদের সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। জানিয়ে দেওয়া হয়, ১৬ বছরের কম কমবয়সিরা আর সমাজমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না। ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব, এক্স, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম-সহ ১০টি প্রচলিত সমাজমাধ্যমের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। অস্ট্রেলিয়ার দেখানো পথে হেঁটে ছোটদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে কড়াকড়ি জারি করেছে ডেনমার্ক এবং ফ্রান্স। একই পথে হাঁটছে ব্রিটেন এবং ভারতও। ছোটদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারের উপর কড়াকড়ি চালু করার ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে বিভিন্ন দেশ।
এ বার তুরস্কও সেই পথেই হাঁটল। বুধবার বেশি রাতের দিকে তুরস্কের পার্লামেন্টে এই সংক্রান্ত আইন পাশ হয়। নতুন আইনে ছোটদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পাশাপাশি বিভিন্ন গেমিং সফ্টঅয়্যার কোম্পানি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপর নয়া নিয়মাবলিও চাপানো হয়েছে। তুরস্কে পরিষেবা দেওয়ার জন্য সকল গেমিং এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিতে ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, সেগুলিতে তুরস্কের একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হবে।
ভারতে কেন্দ্রীয় স্তরে এখনও পর্যন্ত এমন কোনও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তবে কেন্দ্রের নীতিতে এমন আভাস রয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। গত জানুয়ারিতে সংসদে পেশ করা অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়, অনলাইন আসক্তি কমাতে অনলাইন ক্লাস কমানো উচিত। এ ছাড়া বেশ কিছু রাজ্যও এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। ১৬ বছরের কম বয়সিদের সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে গোয়ার সরকার। অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারও এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া শুক্রবার বাজেট পেশ করার পর বলেছেন, ‘‘শিশুদের উপর অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের বিরূপ প্রভাব ঠেকাতে ১৬ বছরের কমবয়সিদের জন্য সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে।’’