Bangladesh

আবার অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম, সেনার গুলি, দুষ্কৃতী হামলায় নিহত দু’জন আদিবাসী রাজনৈতিক কর্মী

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দিঘিনালা ও রামগড় উপজেলার দু’টি হামলার ঘটনায় নিহতেরা হলেন, ইউপিডিএফ সদস্য সুজন চাকমা ও ববিন ত্রিপুরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ০১:৪১
বাংলাদেশের সেনাবাহিনী।

বাংলাদেশের সেনাবাহিনী। —ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরে নেতৃত্বে বাংলাদেশে নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে মাস চারেক আগে। এর মধ্যেই ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। সেখানকার খাগড়াছড়়ি জেলায় বুধবার বন্দুকবাজের হানার দু’টি পৃথক ঘটনায় জনজাতি-ভিত্তিক রাজনৈতিক দল ‘ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’ (ইউপিডিএফ)-এর দুই নেতা নিহত হয়েছেন। এঁদের এক জনকে সেনা গুলি করেছে বলে অভিযোগ।

Advertisement

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দিঘিনালা ও রামগড় উপজেলার দু’টি হামলার ঘটনায় নিহতেরা হলেন, ইউপিডিএফ সদস্য সুজন চাকমা ও ববিন ত্রিপুরা। মাস কয়েক আগে পার্বত্য চট্টগ্রামেরই বান্দরবন জেলায় আদিবাসী সংগঠন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)-এর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে এক জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। ইউপিডিএফের দাবি, নিহতদের একজন বাংলাদেশি নিরাপত্তাবাহিনী ও আরেক জন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় সুনিল ত্রিপুরা নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ঘরেই পার্বত্য চট্টগ্রাম স্বশাতিত পরিষদের পূর্ণ স্বশাসনের দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছে আদিবাসী সংগঠন জেএসএস।

‘হিল উইমেন্স ফেডারেশন’, ‘পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ’, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতি’র মতো আদিবাসী সংগঠনগুলি সংগঠনগুলি মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জমানাতেই অভিযোগ তুলেছিল, পুলিশ-প্রশাসনের একাংশের মদতে পাহাড়ে বসবাসকারী চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, কুকি, ব্রু-সহ বিভিন্ন অমুসলিম জনজাতি গোষ্ঠীগুলির উপর হামলা হচ্ছে। তারেকের আমলেও একই অভিযোগ উঠেছে। বস্তুত, গত সাড়ে পাঁচ দশকে বিভিন্ন সময়েই এমন অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, আশির দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনবিন্যাস বদলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের আমলে প্রায় ৫০ হাজার সমতলের মানুষকে পাহাড়ে বসতি গড়ে দেওয়া হয়। ‘সেটলার’ নামে পরিচিত সেই জনগোষ্ঠী আজ সংখ্যায় বহু গুণ বেড়ে চাকমা ও অন্য জনজাতিদের অস্তিত্বের সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে। বান্দরবনে মুসলিম জনসংখ্যা ইতিমধ্যেই ৫২ শতাংশ পেরিয়ে গিয়েছে। খাগড়াছড়ি এবং রাঙামাটির পাহাড়েও দ্রুত মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে। নিজভূমে পরবাসী হয়ে পড়ছেন আদিবাসীরা। আর সেখান থেকেই সংঘাতের সূত্রপাত। অভিযোগ, গত দেড় বছরে ধারাবাহিক হামলায় পার্বত্য চট্টগ্রামে ৫০ জনের বেশি অমুসলিম আদিবাসী খুন হয়েছেন। তাঁদের বাড়িঘর, ধর্মস্থান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বহুবার।

Advertisement
আরও পড়ুন