US Iran War

পাইলটকে খুঁজতে যাওয়া মার্কিন ‘ব্ল্যাকহকে’ পর পর গুলি! ইরানে আবার ধাক্কা আমেরিকার, ২৪ ঘণ্টায় কী কী খোয়ালেন ট্রাম্প

দু’টি মার্কিন যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়েছে ইরান। দু’জনকে উদ্ধার করা গেলেও এক পাইলট এখনও নিখোঁজ। আমেরিকার পাশাপাশি ইরানও তাঁকে খুঁজে পেতে মরিয়া।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১৫
মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে ইরান।

মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে ইরান। —ফাইল চিত্র।

এ-১০ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজতে গিয়েও ধাক্কা খেতে হচ্ছে আমেরিকাকে। গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিম এশিয়ায় বার বার মুখ পুড়েছে মার্কিন বাহিনীর। সূত্রের খবর, নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজে বার করতে তল্লাশি অভিযানে আমেরিকা দু’টি ‘ব্ল্যাকহক’ হেলিকপ্টার নিয়োগ করেছিল। সেগুলিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইরানের সেনা। গুলি খেয়ে কোনও রকমে পালিয়ে বেঁচেছে মার্কিন কপ্টার। কিন্তু ওই বিমানের পাইলটের খোঁজ এখনও মেলেনি।

Advertisement

সংবাদসংস্থা রয়টার্স ইরান এবং আমেরিকার আধিকারিকদের উল্লেখ করে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পর পর দু’টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। একটিকে গুলি করে নামানো হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে। অন্যটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুয়েতে হরমুজ় প্রণালীর কাছে। এই দু’টি বিমান থেকে দু’জন পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও এক জনের খোঁজ নেই। উদ্ধারকাজ কত দূর, তল্লাশি অভিযান কেমন চলছে, সে বিষয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কোনও মন্তব্য করতে চাননি। জানিয়েছেন, বিষয়টি সংবেদনশীল। তাই প্রকাশ্যে কিছু বলা উচিত হবে না। অন্য দিকে, আমেরিকার নিখোঁজ পাইলটকে তন্ন তন্ন করে খুঁজছে ইরানও। সে দেশের সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, ‘শত্রু’ দেশের পাইলটকে জীবন্ত ধরে আনতে পারলে পুরস্কার মিলবে।

রয়টার্সের রিপোর্ট বলছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে গুলি করে নামানো হয়েছে আমেরিকা এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান। দুই দেশই এই বিমান ধ্বংসের কথা মেনে নিয়েছে। আমেরিকা দ্বিতীয় ধাক্কাটি খেয়েছে কুয়েতে। সেখানে এ-১০ যুদ্ধবিমান ইরানের আক্রমণে ধ্বংস হয়েছে। তবে এই বিমান ভেঙে পড়ার আগে পাইলট বেরিয়ে গিয়েছিলেন। পশ্চিম এশিয়ায় নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজতে দু’টি ‘ব্ল্যাকহক’ কপ্টার পাঠানো হয়েছিল। সেগুলিকে লক্ষ্য করে ইরানের সেনা গুলি চালায়। ফলে কপ্টারগুলি দ্রুত সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। তল্লাশি সম্ভব হয়নি। এই কপ্টারে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের আঘাত কতটা গুরুতর, এখন তা স্পষ্ট নয়। যেখানে এফ-১৫ই বিমানটি ভেঙে পড়েছে, সেই এলাকা ঘিরে রেখেছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী। যে কোনও মূল্যে তারা মার্কিন পাইলটকে জীবন্ত অবস্থায় হেফাজতে নিতে মরিয়া।

ট্রাম্প এবং তাঁর আধিকারিকেরা বার বার দাবি করছেন, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে তাঁরাই চালকের আসনে। পরিস্থিতি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শীঘ্র যুদ্ধ থেমে যাবে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। জানিয়েছেন, মার্কিন যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার কোনও প্রভাব সমঝোতার আলোচনায় পড়বে না। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। পাকিস্তানে আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার আলোচনায় বসার আর্জি খারিজ করে দিয়েছে ইরান। ফলে আলোচনার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। ৩০০-র বেশি সেনা জখম। অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্প যুদ্ধ শুরু করলেও এখন পরিস্থিতি তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন