US-China

‘ক্ষমতার আস্ফালন কখনই কোনও সমস্যার সমাধান করতে পারে না!’ সরাসরি আমেরিকা এবং চিনকে নিশানা রাষ্ট্রপুঞ্জের

রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব পদে এটাই গুতেরেসের শেষ বছর। শেষ বছরের কার্যক্রম শুরুর মুখে সাংবাদিক বৈঠকে আমেরিকা এবং চিন নিয়ে নিজের আশঙ্কার কথা প্রকাশ করলেন গুতেরেস।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০০
UN chief Antonio Guterres said global problems will not be solved by one power

(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আমেরিকা এবং চিন— দুই শক্তি কখনই বিশ্বব্যাপী সমস্যার সমাধান করতে পারে না! এমনই মনে করেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস। তাঁর মতে, দুই শক্তির আস্ফালন বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রভাব বিশ্বকে বিভক্ত করবে, কোনও সমস্যার সমাধান নয়।

Advertisement

রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব পদে এটাই গুতেরেসের শেষ বছর। চলতি বছরের শেষে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ তাঁর উত্তরসূরি ঘোষণা করতে পারেন। শেষ বছরের কার্যক্রম শুরুর মুখে সাংবাদিক বৈঠকে আমেরিকা এবং চিন নিয়ে নিজের আশঙ্কার কথা প্রকাশ করলেন গুতেরেস। তাঁর মতে, ‘‘কোনও একটি শক্তির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান হবে না।’’ তিনি কী বোঝাতে চাইছেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা দেখতে পাচ্ছি বিশ্বে দু’টি মেরু রয়েছে। একটি আমেরিকার দিকে ঝুঁকে, অন্যটি চিনকেন্দ্রিক। আমরা যদি একটি স্থিতিশীল বিশ্ব চাই, এমন বিশ্ব চাই, যেখানে শান্তি বিরাজ করবে— তবে অবশ্যই আমাদের বহুমেরুত্বকে সমর্থন করতে হবে।’’

গত বছর জানুয়ারিতে দ্বিতীয় বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই বিশ্ব জুড়ে আমেরিকাকে ‘দাদা’ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপুঞ্জের ভূমিকা অস্বীকারও করেছেন তিনি। নিজেকে বিশ্বের সর্বময় কর্তা হিসাবে তুলে ধরতে চান। তার জন্য গত এক বছরে বেশ কিছু পদক্ষেপও করেছেন ট্রাম্প। তবে গুতেরেসের মতে, ‘‘আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তার মৌলিক দায়িত্ব রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং নিরাপত্তা পরিষদের।’’ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন গুতেরেস। তাঁর কথায়, ‘‘যারা রাষ্ট্রপুঞ্জের সমালোচনা করে, তারাই সংস্কার-বিরোধী। সেই কারণেই আমরা যতটা চাই, কখনও কখনও রাষ্ট্রপুঞ্জ ততটা কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারে না।’’

গুতেরেসের এই মেয়াদে বিশ্ব বেশ কিছু সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত, আফগানিস্তানের সরকার পতন এবং তালিবানের প্রত্যাবর্তন, সুদানে সংঘাত, গাজ়ায় ইজ়রায়েল এবং হামাসের যুদ্ধ, সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ, আমেরিকার হাতে ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর আটক— এমন নানা বিষয় ঘটেছে। গুতেরেসের মতে, ‘‘আন্তর্জাতিক আইন পদদলিত হচ্ছে। সহযোগিতার বদলে জায়গা নিচ্ছে আগ্রাসন।’’

ট্রাম্প নিজেকে বিশ্বে ‘শান্তিদূত’ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। তিনি বার বার দাবি করেন, গত এক বছরে বিশ্ব জুড়ে ঘটা আটটি সংঘাতের অবসান ঘটিয়েছেন। যদিও আমেরিকার এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেনি রাষ্ট্রপুঞ্জ, যা মেনে নিতে পারেননি ট্রাম্প। রাষ্ট্রপুঞ্জের বাজেটে কাটছাঁট করে তাঁর প্রশাসন। এই অদৃশ্য সংঘাতের মধ্যে আমেরিকা এবং চিনকে এক বন্ধনীতে রেখে মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব।

Advertisement
আরও পড়ুন