UNESCO on TAXILA

‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ তক্ষশীলার রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি, ইউনেস্কো সতর্ক করল পাকিস্তানকে

পাক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’ বৃহস্পতিবার ইউনেস্কোর সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে। তাতে পাকিস্তানকে তক্ষশিলার দু’টি ঐতিহাসিক সৌধের ‘পুনর্নির্মাণ’ অবিলম্বে স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ২৩:৫৫
‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ তক্ষশীলা।

‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ তক্ষশীলা। ফাইল চিত্র।

মহেঞ্জোদারো এবং হরপ্পার পরেই পাকিস্তানে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ তক্ষশীলার (বর্তমান নাম ট্যাক্সিলা) পরিচিতি। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণে চরম গাফিলতি হচ্ছে বলে এ বার অভিযোগ তুলল রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্থা ইউনেস্কো। তাদের দাবি, চরম অবৈজ্ঞানীক পদ্ধতিতে সংস্কার করা হচ্ছে তক্ষশীলার প্রাচীন ইমারতগুলির।

Advertisement

পাক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’ বৃহস্পতিবার ইউনেস্কোর সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে। তাতে পাকিস্তানকে তক্ষশিলার দু’টি ঐতিহাসিক সৌধের ‘পুনর্নির্মাণ’ অবিলম্বে স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সিমেন্ট ব্যবহার করে সংস্কারের কাজ চালানোর ফলে ইটের তৈরি কাঠামোর অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে ইসলামাবাদকে জানিয়েছেন ইউনেস্কোর পুরাতত্ত্ববিদেরা। হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, মোহরা মোরাডু এবং সিরকাপের ঐতিহাসিক কাঠামো দু’টির ‘চরিত্র’ বদলে গেলে তাকে ‘বিশ্ব ঐতিহ্যক্ষেত্র’ হিসাবে মর্যাদা দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তার বদলে ঠাঁই হতে পারে ‘বিপদাপন্ন’ তালিকায়। ‘দ্য ডন’ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি, এর আগে অবৈজ্ঞানীক পদ্ধতিতে সংস্কারের কারণে জার্মানির একটি বিশ্ব ঐতিহ্যক্ষেত্রের মর্যাদা প্রত্যাহার করেছিল ইউনেস্কো। প্রয়োজন পড়লে গোটা তক্ষশিলাকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকা থেকেও বাদ দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে ওই সতর্কবার্তায়।

পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের রওয়ালপিন্ডির তক্ষশীলার ঐতিহ্যক্ষেত্রে রয়েছে একটি মধ্যপ্রস্তর যুগের গুহা, চারটি প্রাচীন বসতির প্রত্নতাত্ত্বিক অবশেষ, কয়েকটি প্রাচীন বৌদ্ধবিহার। ইউনেস্কোর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই চারটি বসতির ধ্বংসাবশেষ পাঁচ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে নগর বিকাশের ধারার চিত্র তুলে ধরে। গত মার্চ মাসে, এক পর্যটক তথা পুরাতত্ত্বপ্রেমী প্যারিসে ইউনেস্কোর দফতরে তক্ষশীলার কিছু তথ্য ও আলোকচিত্র পেশ করেছিলেন। যেখানে পাক পঞ্জাব প্রদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পুনর্নির্মাণের কাজ সংক্রান্ত বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ওই দর্শনার্থী জানান নতুন নির্মাণের ফলে স্বকীয়তা এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব হারাচ্ছে তক্ষশীলা।

Advertisement
আরও পড়ুন